পূবাইলে স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামী গ্রেপ্তার, ২ দিনের রিমান্ড

গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলে আফসানা আক্তার স্নিগ্ধা (২১) নামে এক তরুণীকে হত্যার মামলায় তাঁর স্বামী মেহেদী হাসান মারুফকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১টা ২৫ মিনিটে কুষ্টিয়া সদর থানা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তাঁর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বিজ্ঞাপন
পূবাইল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত স্নিগ্ধা গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানার ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের তালটিয়া মধ্যপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন। প্রায় ছয় মাস আগে মারুফ প্রবাসে থাকা অবস্থায় মুঠোফোনে তাঁদের বিয়ে হয়। পরে দেশে ফিরে কাজির মাধ্যমে নিকাহনামা সম্পন্ন করেন মারুফ। তবে স্বামীর পরিবারের সদস্যরা স্নিগ্ধাকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে না নেওয়ায় তাঁরা আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, দাম্পত্য কলহের জেরে মারুফ মাঝেমধ্যে স্নিগ্ধাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে ছোট বোন সিনথিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে স্নিগ্ধার সর্বশেষ কথা হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে একই বাড়ির অপর এক ভাড়াটিয়া স্নিগ্ধার বাবাকে খবর দেন, তাঁর মেয়ে বাসার ভেতরে মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা তোষকের ওপর স্নিগ্ধার মরদেহ দেখতে পান। এ সময় মারুফকে বাসায় পাওয়া যায়নি। পরিবারের অভিযোগ, ওই দিন সকালে নিজের জিনিসপত্র ও ব্যাগ নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান তিনি।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আফসার মিয়া বাদী হয়ে পূবাইল থানায় হত্যা মামলা করেন। ১৯ সেপ্টেম্বর মামলাটি পূবাইল থানার ৮ নম্বর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রফিকুল ইসলাম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কুষ্টিয়া সদর থানা এলাকা থেকে মামলার এজাহারনামীয় আসামি মারুফকে গ্রেপ্তার করেন। পরে শনিবার সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে তাঁকে পূবাইল থানায় আনা হয়।
বিজ্ঞাপন
পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আসামি মারুফকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।








