Logo

রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি : আয়াস-রিমির জামিন শুনানিতে হট্টগোল

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১৯:৫৯
রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি : আয়াস-রিমির জামিন শুনানিতে হট্টগোল
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেয়ালচিত্র মোছার চেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সভাপতি আল নূর মোহাম্মদ আয়াস ও মারজিয়া খন্দকার রিমির জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে ঢাকার আদালতে হট্টগোল ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী আল মহসিন তৌহিদকে কয়েকজন আইনজীবী মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান বিচারক।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিয়াদ হাসানের আদালতে এ ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিচারক এজলাসে ফিরে শুনানি শেষে আয়াস ও রিমির জামিন আবেদন নাকচ করেন এবং তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল গাফফার হিমেল আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে, তাদের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন জানান। রাষ্ট্রপক্ষ সেই আবেদনের বিরোধিতা করে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আদালতে উপস্থিত আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুনানির একপর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যের বিরোধিতা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আল মহসিন তৌহিদ। এ নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তার শার্ট টেনে ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় বিচারক এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে তিনি আবার এজলাসে ফিরে সংক্ষিপ্ত শুনানি করেন। এরপর আয়াস ও রিমির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

আদালতের নির্দেশের পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাদের হাজতখানায় নেওয়া হয়।

গত ১১ অক্টোবর আদালত আয়াস ও রিমির পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আয়াসকে তিন দিন এবং রিমিকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। একই মামলায় মো. সাকিবুল হাসান ও মো. সুজন মিয়াকেও যথাক্রমে তিন ও দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছিল। রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার সাকিবুল হাসান ও সুজন মিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়।

বুধবার আয়াস ও রিমিকে আদালতে হাজির করে তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সেসব তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ও ঠিকানা শনাক্ত করার কাজ চলছে।

বিজ্ঞাপন

তদন্তের স্বার্থে দুই আসামিকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি, তদন্তের প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে তাদের আবারও পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলেও জানানো হয়।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করেন। তার বক্তব্যের একপর্যায়ে আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

মামলার সূত্রপাত গত ১০ অক্টোবর। সেদিন রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টা করেন আয়াসসহ একদল তরুণ। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে তাদের সঙ্গে পুলিশের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ঘটনাস্থলে এক নারীকে দেয়ালচিত্রে কালো রং লাগাতে দেখা যাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আয়াসসহ চারজনকে থানায় নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক জিয়াউল হক বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পুলিশের রিমান্ড আবেদনে আয়াসের পাকিস্তানে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর কবর ও নামফলক নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে, রিমি ভারতীয় আগ্রাসন এবং রবীন্দ্রনাথের জমিদারি আমলে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে দেয়ালচিত্রে কালো রং লাগান বলে আবেদনে দাবি করা হয়।

ঘটনার পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা, পরিকল্পনা ও অর্থায়নের উৎস শনাক্ত করতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে জানিয়েছিল পুলিশ। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

সেগুনবাগিচায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরসহ বিভিন্ন শিল্প-সাহিত্যিক ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি আঁকা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

এসব দেয়ালচিত্র নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠার পর সেগুলো মোছার উদ্যোগ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই বিতর্কের মধ্যেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালো রং লাগানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলা দায়ের করা হয়।

আদালত আয়াস ও রিমির জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে জামিন নামঞ্জুর হওয়া মানেই তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। মামলাটির তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD