নায়ক মান্নার গাড়িতে আগুন, দুই আসামি কারাগারে

প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্নার ব্যবহৃত গাড়ি মেরামতের সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় তাঁর পরিবারের ব্যবস্থাপক ও এক টেকনিশিয়ানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। অগ্নিকাণ্ডে গাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি পাশের আরেকটি ব্যক্তিগত গাড়ি এবং ভবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ৯০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন মান্নার পরিবারের ব্যবস্থাপক মো. মামুন মণ্ডল (২৯) এবং টেকনিশিয়ান মো. সোহেল পাটওয়ারী (৩৭)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াউর রহমান দুই আসামিকে আদালতে হাজির করেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কারাগারে রাখার আবেদন জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে তাঁদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম দাবি করেছেন, গাড়িটিতে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন দেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে মান্নার মৃত্যুর পর গাড়িটি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় ছিল। মেরামতের কাজ চলার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়। দুই আসামির জামিন আবেদনের শুনানির দিন বুধবার ধার্য রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ভবনের নিচতলার গ্যারেজে মান্নার ব্যবহৃত গাড়িটি রাখা ছিল। ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করেন তাঁর স্ত্রী। গাড়ি থেকে তেল পড়ার কারণে ভবন কর্তৃপক্ষ সেটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানায়। পরে মান্নার স্ত্রী ব্যবস্থাপক মামুনকে গাড়িটি বাইরে কোনো ওয়ার্কশপে নিয়ে মেরামত করার নির্দেশ দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেই নির্দেশনা অনুসরণ না করে সোমবার মামুন টেকনিশিয়ান সোহেলকে নিয়ে ভবনের গ্যারেজেই গাড়ি মেরামতের কাজ শুরু করেন। সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। এতে গাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং পাশে থাকা আরেকটি ব্যক্তিগত গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
অগ্নিকাণ্ডে ভবনের গ্যারেজের বিভিন্ন অংশ, বৈদ্যুতিক তার, সিসিটিভি ক্যামেরা ও গেটের শাটারসহ একাধিক সরঞ্জাম পুড়ে যায়। এ ছাড়া ভবনের কয়েকটি অংশের কাচ ভেঙে যায়। সব মিলিয়ে প্রায় ৯০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার পর ভবনটির ব্যবস্থাপক মো. গাজি মানিক মিয়া মঙ্গলবার সকালে ভাটারা থানায় মামলা করেন। পরে বেলা ১১টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে মামুন ও সোহেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, গাড়িটি প্রায় দেড় বছর ধরে পড়ে ছিল। বাইরে নিয়ে মেরামত করার কথা থাকলেও একজন মেকানিককে ডেকে ভবনের গ্যারেজেই কাজ শুরু করা হয়। প্রাথমিকভাবে সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে।








