Logo

তাহসিফের সঙ্গে থাকা সেই তরুণী ফের তিন দিনের রিমান্ডে

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৫:৪৭
তাহসিফের সঙ্গে থাকা সেই তরুণী ফের তিন দিনের রিমান্ডে
ছবি: সংগৃহীত

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার জেরিকা তাসনীম দিশার (১৯) আবারও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৪ নভেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে চার দিনের রিমান্ড শেষে দিশাকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তের স্বার্থে নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাকে আরও সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর রাতে নিহত তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ গিয়েছিলেন দিশা। ঘটনার আগে তারা একাধিকবার ‘সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকস’-এও গিয়েছিলেন। এ ছাড়া একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে মামলার অপর রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের (২৩) সঙ্গে দিশাকে একসঙ্গে দেখা গেছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরির পাশাপাশি রেস্টুরেন্টেও সময় কাটিয়েছিলেন দিশা। নিহতের মোবাইল ফোনের কললিস্ট (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে ঘটনার আগে তাদের মধ্যে একাধিকবার ফোনে কথা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে দাবি করেন, প্রাথমিক তদন্তে তাহসিফ হত্যাকাণ্ডে দিশার সংশ্লিষ্টতার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন, অজ্ঞাত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণ এবং আলামত উদ্ধারে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অপর আসামি দীপের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য মিলিয়ে দেখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।

এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে ৩০ অক্টোবর রাতে রাজধানীর উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরে দীপকে এ মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

মামলার এজাহারে তাহসিফের বাবা উল্লেখ করেন, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার পর দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হন তার ছেলে। রাত গভীর হলেও ফিরে না আসায় তাহসিফের মা একাধিকবার ফোন করেন। তখন তিনি কিছুক্ষণের মধ্যে বাসায় ফেরার কথা জানান।

বিজ্ঞাপন

এজাহারে আরও বলা হয়, রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফের ফোন থেকে মেসেঞ্জারে তার মায়ের কাছে একটি ভয়েস বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, ‘রওনা দিয়েছি, আসছি’। কিন্তু পরদিন বিকেল পর্যন্ত তিনি বাসায় ফেরেননি।

পরে ২৮ অক্টোবর বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে উত্তরখান থেকে নৌ পুলিশ ফোন করে তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানায়। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে ২৯ অক্টোবর দুপুরে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। ওই দিন বিকেলে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD