Logo

জাল চেকে গৃহবধূর ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ, আসামি ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ৪ কর্মকর্তাসহ ৯

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৫:০৯
জাল চেকে গৃহবধূর ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ, আসামি ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ৪ কর্মকর্তাসহ ৯
ছবি : জনবাণী গ্রাফিক্স

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের রাজধানীর কদমতলীর ধনিয়া শাখা থেকে চেক ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে এক গৃহবধূর ব্যাংক হিসাব থেকে ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৪ নভেম্বর) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আশরাফুল হক এই আদেশ দেয়। দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ ঘটনায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ধনিয়া শাখার চার কর্মকর্তা এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ও কর্মকর্তাসহ মোট ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বাদী নারগিস আক্তার (৩৯)। তিনি কদমতলী থানার ধনিয়া রোডের বাসিন্দা। আদালতে দাখিল করা নালিশি দরখাস্তে তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সম্পত্তি ও গাড়ি বিক্রির টাকা এবং বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে পাওয়া মোট ১ কোটি ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৩১৯ টাকা ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ধনিয়া শাখায় নিজের হিসাবে জমা রেখেছিলেন। ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহায়তা নিতেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

অভিযোগে বলা হয়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পাঁচ লাখ টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে গেলে ডিপিএস খোলার কথা বলে ব্যাংকের সহকারী কর্মকর্তা সৌরভ সাহা তার কাছ থেকে একটি চেকে স্বাক্ষর নেন। এ সময় সাদা কাগজেও তার স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী।

বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সময়ে ৪ অক্টোবর ব্যাংকে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, গত ২৩ সেপ্টেম্বর তার হিসাব থেকে একটি চেকের মাধ্যমে ‘গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের হিসাবে ৮৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। এ লেনদেনের বিপরীতে ‘পজিটিভ পে ইনস্ট্রাকশন’ ফরমও পূরণ করা হয়। তবে ওই দিন তিনি ব্যাংকে যাননি এবং কাউকে কোনো চেক দেননি বলে নালিশি দরখাস্তে উল্লেখ করেছেন।

বাদীর অভিযোগ, ব্যাংকের কর্মকর্তারা চেকের পাতা ছিঁড়ে তার স্বাক্ষর জাল করে চেক ও পজিটিভ পে ইনস্ট্রাকশন ফরম তৈরি করেন। পরে পূবালী ব্যাংকের রাজবাড়ী শাখায় থাকা গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডের হিসাবে ওই টাকা স্থানান্তর করা হয়। এরপর গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে শওকত হাসান নামের এক ব্যক্তি পূবালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখা থেকে ৮৫ লাখ টাকা তুলে নেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ধনিয়া শাখার সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডেপুটি ম্যানেজার মোহিত মোরশেদ, সহকারী কর্মকর্তা সৌরভ সাহা, রেমিট্যান্স কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা ব্যবস্থাপক মো. গোলাম কিবরিয়া।

এ ছাড়া গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেড, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহবুব হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাকিম আলী সরদার, ব্যবস্থাপক কাজী এনামুল কবির ও শওকত হাসানকে আসামি করা হয়েছে। নালিশি দরখাস্তে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও আনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাদী অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গিয়ে প্রতিকার না পেয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। পরে আদালতে নালিশি দরখাস্ত দাখিল করেন। শুনানি শেষে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD