ময়মনসিংহে নিষিদ্ধ পল্লীতে অবৈধ মদ


Janobani

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১:০২ পূর্বাহ্ন, ২৯শে সেপ্টেম্বর ২০২২


ময়মনসিংহে নিষিদ্ধ পল্লীতে অবৈধ মদ
বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ময়মনসিংহ নগরীর প্রাণকেন্দ্র নিষিদ্ধ পল্লীকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অবৈধ মদ বাণিজ্য সিন্ডিকেটে। দফায় দফায় পুলিশে অভিযানে এই মাদক সিন্ডিকেটের প্রমাণ মিলেছে। তবে কোন ভাবেই এই মাদক সিন্ডিকেটের রমরমা বাণিজ্য নির্মল করা যাচ্ছে না।

এর ফলে সন্ধ্যা না হতেই নগরীর অলিগলিতে মাতালদের যত্রতত্র বিচরণে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, ময়মনসিংহ নগরীর ৮নং ওয়ার্ডের রমেশ সেন রোডে অবস্থিত নিষিদ্ধপল্লী। এই নিষিদ্ধপল্লীর প্রবেশ পথ দুটি। একটি স্বদেশী বাজার রমেশ সেন রোড, অন্যটি গাঙ্গিনারপাড় স্টেশন রোডস্থ এবি গুহ রোড। এসব প্রবেশ পথ দিয়েই নিষিদ্ধ পল্লীর ভিতরে প্রতিদিন চলছে শত শত লিটার অবৈধ চোলাই মদ ও কালোবাজারে বাংলা মদ বিক্রির হিড়িক।

এছাড়াও দেশীয় বাংলা মদ কাউন্টার থেকে প্রতিদিন পারমিটবিহীন দুই থেকে তিন লিটার বাংলা মদ অবৈধভাবে বের হয়ে নিষিদ্ধপল্লীতে জমা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পরে এই অবৈধ মদ মাদক ব্যবসায়ী লাভলী, রুমা, আনু, আঁখি ও গেইটম্যান মতির নেতৃত্বে খুচরা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে মদ সরবরাহ করা হয় নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায়। এতে সংশ্লিষ্ট আর্থিক ভাবে লাভবান হলেও বিপথগামী হয়ে পড়ছে তরুণ প্রজন্মের একটি বৃহৎ অংশ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সূত্র জানায়, র্দীঘদিন ধরে নিষিদ্ধপল্লীতে চোলাই মদ সরবরাহ করে আসছে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও একাধিক মামলার আসামিদের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট।

গত ১১ সেপ্টেম্বর নিষিদ্ধপল্লীর ভিতর থেকে চোলাই মদ বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় নগরীর তেরীপট্টি এলাকা থেকে ১৮ লিটার চোলাই মদসহ এই সিন্ডিকেটের এক সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১৪।

এ অবস্থায় অবৈধ মদ বিক্রি ও মাতালের উৎপাত বন্ধ করতে পুলিশ প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন নগরীর সচেতন মহল। তাদের ভাষ্য, পুলিশ চাইলে নগরীর মদ বাণিজ্য বন্ধ করা সম্ভব। আমরা তাদের কাছে সেই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ আশা করছি।  

তবে মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে দাবি করেছেন নগরীর ১নং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেন। 

তিনি বলেন, নিষিদ্ধপল্লীর ভিতরে একটি অনুমোদিত কাউন্টার রয়েছে, এখান থেকে মাঝে মধ্যে কিছু মদ বাইরে বিক্রি হলেও এদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলমান আছে। তারপরও বিষয়টি আরও কঠোর ভাবে খতিয়ে দেখা হবে- বলেও যোগ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। 

জেবি/ আরএইচ/