প্লাটিলেটের মাত্রা দ্রুত বুঝতে পরীক্ষার কিট আবিষ্কার


Janobani

জনবাণী ডেস্ক

প্রকাশ: ০১:৪৭ অপরাহ্ন, ২৩শে ডিসেম্বর ২০২৩


প্লাটিলেটের মাত্রা দ্রুত বুঝতে পরীক্ষার কিট আবিষ্কার
ছবি: ফাইল

বর্তমান সময়ে ডেঙ্গু জ্বর হলে প্লাটিলেট নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো শেষ থাকে না। তবে যে শুধু ডেঙ্গুর কারণেই প্লাটিলেট কমে, তা কিন্তু একেবারেই নয়। বিভিন্ন কারণেই এটি কমে যেতে পারে। বেশিরভাগ সময় দেখা যায়, প্লাটিলেট কাউন্ট ৫০ হাজারের নিচে আসলেই রোগীরা অনেক আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।


ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর প্লাটিলেট কমতে থাকলে তা ধরা পড়ে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় ততক্ষণে বেশি দেরি হয়ে যায়। আর এই ঝুঁকির বিষয়টি যদি আগাম জানা যায়, তা হলে সে মতো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। 


এ বিষয়টি মাথায় রেখে বিপদের মাত্রা বুঝতে একটি বিশেষ পরীক্ষার জন্য ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট কিটের আবিষ্কার হয়েছে ভারতে। কলকাতার গণমাধ্যম আনন্দবাজার বলছে এই কিটটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে, আর মিলেছে পেটেন্টও।


এই কিট এখনও পর্যন্ত বাজারে আসেনি। তবে যে গবেষক এবং চিকিৎসকেরা এই বিশেষ ‘বায়োমার্কার প্যানেল’ পরীক্ষার কিট আবিষ্কার করেছেন, তাদের আশা স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা এর গুরুত্ব বুঝেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। 


কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক-চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদার জানান, কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কি না, তা বোঝা যায় এনএস-১ কিংবা আইজিএম অ্যান্টিবডি পরীক্ষা দ্বারা। কিন্তু, এর পরে রোগীর শরীরিক গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যাবে, সেটা আগাম বোঝার কোনো উপায়ই নেই। শুধু কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে খেয়াল রাখা হয়, রোগীর প্লাটিলেট কি পরিমাণ আছে। যদি কমে যায়, তা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়। আবার কারও ক্ষেত্রে প্লাটিলেট এত দ্রুত নেমে যায় যে, বড় ধরনের বিপদ দেখা দেয়।


বায়োমার্কার প্যানেল পরীক্ষার প্রসঙ্গে অরুণাংশুর দাবি যে, ডেঙ্গু জ্বর পজিটিভ আসার পরে প্রতি ৪৮ ঘণ্টা পর পর এই পরীক্ষা করলে খারাপ পরিস্থিতির পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব হয়। রোগীর শরীরে প্লাটিলেট কমবে কি না, অথবা অন্য বড় কোনো সমস্যা তৈরি হবে কি না, এ সব আগেই বোঝা যাবে। 


তিনি আরও বলেন, শরীরে কোনো রোগ বাসা বাঁধলে লক্ষ লক্ষ প্রোটিন বের হয়ে যায়। তার কোনগুলো ডেঙ্গুর সাথে সম্পর্কযুক্ত, তা জানতে পারা অনেকটা খড়ের গাদায় সুচ খোঁজার মতো অবস্থা। তাই এই বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা করা প্রয়োজন। 


এমএল/