ফিলিপাইনের রাষ্ট্র ক্ষমতায় আবার সেই মার্কোস পরিবার


Janobani

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১:৪৬ অপরাহ্ন, ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২২


ফিলিপাইনের রাষ্ট্র ক্ষমতায় আবার সেই মার্কোস পরিবার

ফিলিপাইনের মার্কোসের কথা কে না জানে। স্বৈরাচারের কুখ্যাতিই যার ছিলো। কিংবা তার স্ত্রী ইমেলডা মার্কোসের কথা। যার ছিলো বিলাসী জীবন। এই মার্কোস দম্পতির ছেলে ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র এবার জয়ী হতে চলেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। 

মাত্র সাড়ে তিন দশক আগে যে পরিবারটি ফিলিপাইনে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাজনীতি থেকে বিতাড়িত হয়েছিলো সেই পরিবারটিই আবার ফিরে আসছে রাষ্ট্রক্ষমতায়। আর তার মধ্যে দিয়ে গভীর এক প্রশ্ন সামনে এলো- এতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই সবচেয়ে পুরাতন গণতান্ত্রিক দেশটির ভবিষ্যত কী দাঁড়াবে?

১৯৮৬ সালে ফিলিপাইনের জনগণের এক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মার্কোস পরিবার ক্ষমতাচ্যুত হয়। লাখো ফিলিপিনো সেসময় জেগে উঠেছিলো মার্কোস পরিবারের সীমাহীন দূর্নীতি আর ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে। মার্কোস পরিবার তখন রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করে নিজস্ব ব্যাংক রোলে নিয়ে নিয়েছিলো। 

সে সময় দেশ থেকে বিতাড়িত হলেও তার পাঁচ বছর পরেই জুনিয়র মার্কোস ও তার মা ফিলিপাইনে ফিরে যান। জুনিয়র মার্কোস পরিবারের নাম পুনরোদ্ধারে সচেষ্ট হন এবং নিজে ধীরে ধীরে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে শুরু করেন। ২০১০ সালেই রাজ্য পর্যায়ে সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হন মার্কোস। 

আর তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার অনুষ্ঠিত দেশটির প্রেসিডেন্সিলয়ার নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হচ্ছেন তিনি। সেবার মার্কোসের বাবার বিদায়ের পর কার্জন একুইনোর পর এত বড় ব্যবধানে ফিলিপাইনে আর কোনো প্রেসিডেন্ট প্রার্থীই জয়ী হন নি। 

মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত মোট ভোটের ৯০ শতাংশ গণনা শেষ হয়েছে তাতে মার্কোস ২ কোটি ৮৮ লাখ ভোট পেয়েছেন। যা তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট লেনি রোব্রেডোর চেয়ে দ্বিগুনেরও বেশি। 

ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র, ৬৪, দেশটির লাখো মানুষের সমর্থন আদায় করে নিয়েছেন। এই ভোটাররা এখন দেশের চরম দারিদ্রদশা, বৈষম্য ও চলমান দুর্নীতি থেকে মুক্তি চায়। কিন্তু মার্কোস ঠিক কি করতে পারবেন কিংবা করবেন সেটাই এখন দেখার বিষয়। 

ওআ/