Logo

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: জ্বালানি অনিশ্চয়তায় চাপের মুখে বেসরকারি খাত

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ মার্চ, ২০২৬, ১৮:৫২
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: জ্বালানি অনিশ্চয়তায় চাপের মুখে বেসরকারি খাত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ, বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা এবং জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতার কারণে দেশের বেসরকারি খাতের অগ্রগতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সংগঠনটির মতে, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বিনিয়োগ প্রবাহ স্বাভাবিক করা কঠিন হবে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৯ মার্চ) ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বেসরকারি খাতের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব বিষয় তুলে ধরেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আর্থিক খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নীতি প্রণয়নে কাজ চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় সরকার সতর্ক রয়েছে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সামাল দিতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নয়নের সুফল দেশের সব মানুষের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি করজাল সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় মনোযোগ না দেওয়ায় দেশকে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সেমিনারে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দেশের শিল্পখাত জ্বালানি আমদানির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল হওয়ায় বেসরকারি খাতে অস্থিরতা বাড়ছে। পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসনের নতুন শুল্কনীতিও স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিজ্ঞাপন

তিনি স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি প্রত্যাহার ও সুদের হার কমানোর দাবি জানান।

পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. মঞ্জুর হোসেন বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছাতে হলে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগের জন্য সহায়ক নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন

সেমিনারে এসএসজিপি-এর অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম জাহাঙ্গীর জানান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এলডিসি উত্তরণের সময় তিন বছর বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ আকতার হোসেন বলেন, বর্তমানে দেশে মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ৯ শতাংশের ঘরে রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এ পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, যুক্তরাজ্যভিত্তিক রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম রিয়াজ আসাদুল্লাহ এবং বিজিএমইএ’র পরিচালক ও সুরমা গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল সামাদ।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD