ঈদের আমেজ কাটেনি ব্যাংকিং পাড়ায়, ঢিলেঢালায় চলছে কার্যক্রম

টানা সাত দিনের ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে দেশের ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবারও কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে রাজধানীর প্রধান ব্যাংকিং কেন্দ্র মতিঝিলে এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসেনি। বরং প্রথম কর্মদিবসে দেখা গেছে তুলনামূলক ধীর গতি ও ঈদের আমেজমিশ্রিত পরিবেশ।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকে মতিঝিল ও দিলকুশা এলাকার বিভিন্ন ব্যাংক পরিদর্শনে দেখা যায়, কর্মী উপস্থিতি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কিছুটা কম। যারা অফিসে এসেছেন, তাদের অনেকেই কাজের চাপ কম থাকায় সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও অনানুষ্ঠানিক আলাপে সময় কাটিয়েছেন।
নিয়ম অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে ব্যাংকিং লেনদেন শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চললেও অফিস কার্যক্রম সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। তবে প্রথম দিন গ্রাহকের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে কম। ফলে অনেক শাখায় লেনদেন হয়েছে সীমিত পরিসরে।
বিজ্ঞাপন
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘ ছুটির পর প্রথম কার্যদিবস হওয়ায় গ্রাহক প্রবাহ স্বাভাবিকভাবে কম ছিল। তবে আগামী দিনগুলোতে ধীরে ধীরে লেনদেন বাড়বে বলে তারা আশা করছেন। প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।
সোনালী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ছুটির পর ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং প্রথম দিনে গ্রাহক উপস্থিতি তুলনামূলক কম হলেও ধীরে ধীরে তা বাড়বে। গ্রাহকদের সেবা দিতে ব্যাংক সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে ব্যাংকপাড়ার পরিবেশেও ঈদের ছুটির প্রভাব স্পষ্ট। কিছু গ্রাহক নগদ টাকা জমা ও উত্তোলনের পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত সেবা নিতে এলেও বড় ধরনের ভিড় দেখা যায়নি। ফলে অনেকে দ্রুত সেবা সম্পন্ন করতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
ব্যাংকারদের মতে, পুরোপুরি স্বাভাবিক ব্যাংকিং পরিবেশে ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। কারণ টানা ছুটির পরপরই আবারও বিভিন্ন সরকারি ছুটি সামনে রয়েছে। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটি, তার আগে ২৪ ও ২৫ মার্চ অনেকেই ঐচ্ছিক ছুটি নিয়েছেন। এরপর ২৭ ও ২৮ মার্চ সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় কার্যত টানা বিরতির প্রভাব পড়ছে ব্যাংকিং খাতে।
১৭ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত দীর্ঘ ছুটির কারণে অফিস ও ব্যাংক কার্যক্রমে এক ধরনের শ্লথতা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী সপ্তাহের শুরু থেকে ব্যাংকিং কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।








