তরমুজের দাম কমে নেমেছে ৬০ টাকায়, তবুও বাজারে ক্রেতা সংকট

রমজান শেষে বাজারে তরমুজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা পাচ্ছেন না বিক্রেতারা। আগে যেখানে প্রতি কেজি তরমুজ ৯০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে, পরে তা নেমে আসে ৮০ টাকায়। বর্তমানে ভরা মৌসুমে সেই দাম আরও কমে কেজিপ্রতি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম কমলেও বিক্রিতে তেমন গতি আসেনি।
বিজ্ঞাপন
বিক্রেতাদের মতে, রমজানের শুরুতে বাজারে মূলত আগাম জাতের তরমুজ ছিল, যার কারণে দাম তুলনামূলক বেশি ছিল। এখন মৌসুমের স্বাভাবিক তরমুজ বাজারে আসায় দাম কমেছে। কিন্তু ঈদের ছুটিতে অনেক মানুষ ঢাকায় না থাকায় বিক্রি আশানুরূপ হচ্ছে না।
রাজধানীর মালিবাগ এলাকার এক বিক্রেতা খোরশেদ আলম বলেন, মৌসুম শুরু হওয়ায় দাম কমলেও ক্রেতারা আরও কম দামে তরমুজ প্রত্যাশা করছেন। ঈদের ছুটির কারণে ঢাকায় মানুষের উপস্থিতি কম থাকায় বিক্রি কমে গেছে। পাইকারি দামে যেভাবে তরমুজ কিনতে হচ্ছে, সেভাবেই সামান্য লাভ রেখে বিক্রি করতে হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডের আরেক বিক্রেতা হাবিবুর রহমান জানান, ঈদের আগে এক পিকআপ তরমুজ এনে বিক্রি আশা অনুযায়ী হয়নি। দাম শুনেই অনেক ক্রেতা ফিরে যাচ্ছেন। রমজানে ইতোমধ্যে অনেকেই তরমুজ কিনে খেয়েছেন, ফলে এখন চাহিদা কমে গেছে। ছুটি শেষে মানুষ ঢাকায় ফিরলে বিক্রি কিছুটা বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, ক্রেতাদের মধ্যে দাম নিয়ে অসন্তোষ দেখা গেছে।
রাজধানীর শান্তিনগর থেকে তরমুজ কিনে নেওয়া আব্দুর রহমান জানান, মৌসুমে এসে কেজি ৬০ টাকা দামে তরমুজ বিক্রি হওয়াকে তিনি এখনো বেশি মনে করছেন। তার অভিযোগ, কিছু ব্যবসায়ী রমজানে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করায় এখন বাজারে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
একই এলাকার আরেক ক্রেতা মোজাম্মেল হক বলেন, রমজানেও তরমুজের দাম ছিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি। মৌসুমে দাম কমার কথা থাকলেও এখনও কেজি হিসেবে উচ্চ দরে বিক্রি হওয়ায় অনেকেই কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন না। দাম আরও যৌক্তিক পর্যায়ে নামলে এবং পিস হিসেবে বিক্রি শুরু হলে তবেই বাজারে স্বাভাবিক গতি ফিরবে।
সব মিলিয়ে তরমুজের দাম কমলেও রাজধানীর বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে এক ধরনের অমিল দেখা যাচ্ছে। চাহিদা কমে যাওয়া, ঈদের ছুটিতে জনশূন্যতা এবং দামের প্রতি অনাস্থা—সব মিলিয়ে মৌসুমের শুরুতে তরমুজ বিক্রি প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।








