Logo

ইইউ বাজারে বড় পতন : জানুয়ারিতে পোশাক রপ্তানি কমেছে ২৫ শতাংশ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ মার্চ, ২০২৬, ১৩:০৮
ইইউ বাজারে বড় পতন : জানুয়ারিতে পোশাক রপ্তানি কমেছে ২৫ শতাংশ
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাজারে বছরের শুরুতেই নেতিবাচক প্রবণতা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এই বাজারে দেশের পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে, যা শিল্পখাতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বিজ্ঞাপন

ইইউর পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ২৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এ সময়ে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ইউরো, যেখানে গত বছরের জানুয়ারিতে এই আয় ছিল ১ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ইউরো।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রপ্তানি কমার পেছনে মূলত দুটি কারণ প্রভাব ফেলেছে—রপ্তানির পরিমাণ কমে যাওয়া এবং পণ্যের গড় মূল্য হ্রাস। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ১৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম কমেছে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

এ পরিস্থিতিতে দেশের রপ্তানিকারক ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ, বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় অর্ধেকই আসে ইইউ বাজার থেকে। ফলে এই ধারা দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত রদবদল এবং বিভিন্ন বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতার কারণে চীন, ভারত, ভিয়েতনামসহ প্রতিযোগী দেশগুলো এখন ইইউ বাজারে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে প্রতিযোগিতা তীব্রতর হয়েছে এবং বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের ওপর চাপ বেড়েছে।

অন্যদিকে, ইউরোপে পোশাকের চাহিদাও কিছুটা কমে গেছে। বাড়তি প্রতিযোগিতার কারণে ক্রেতারা এখন বেশি দরকষাকষি করছেন এবং তুলনামূলক কম দামে পণ্য কিনতে আগ্রহী। ফলে রপ্তানিকারকদের মুনাফা কমে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য আরও বলছে, শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয়, পুরো ইইউ বাজারেই পোশাক আমদানিতে মন্দা চলছে। জানুয়ারিতে ইইউর মোট পোশাক আমদানি ১৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ কমে ৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউরোতে নেমে এসেছে। একই সময়ে আমদানির পরিমাণ কমেছে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং গড় ইউনিট মূল্য কমেছে ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

ইইউতে অন্যান্য বড় রপ্তানিকারক দেশগুলোর অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। চীন ২ দশমিক ২২ বিলিয়ন ইউরোর পোশাক রপ্তানি করলেও তাদের রপ্তানি মূল্য কমেছে ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ। দেশটির ইউনিট মূল্য ৮ দশমিক ১ শতাংশ কমলেও পরিমাণে সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়াও নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধির মুখে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে তুরস্ক, যাদের রপ্তানি কমেছে ২৯ দশমিক ১২ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপে চাহিদা হ্রাস, মূল্যচাপ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সম্মিলিত প্রভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বছরের শুরুতেই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন উদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, শুধু স্বল্পমেয়াদি সমাধান নয়, দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ জরুরি। এর মধ্যে পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, মূল্য সংযোজন বাড়ানো, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং কমপ্লায়েন্স উন্নত করা প্রয়োজন।

এছাড়া লজিস্টিকস ব্যবস্থার উন্নয়ন, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং ইইউসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাজারের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD