Logo

ঈদের বাজারে দামের ঝড়, লাগামহীন মাছ-মাংস-মশলা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ মার্চ, ২০২৬, ১৩:৪০
ঈদের বাজারে দামের ঝড়, লাগামহীন মাছ-মাংস-মশলা
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ক্রেতাদের বাড়তি চাহিদার সুযোগে মাছ, মাংস ও মশলার দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে তুলনামূলকভাবে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে সবজির বাজারে।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঈদকে কেন্দ্র করে মাংস ও মাছের দাম বেড়ে গেছে। গরুর মাংস বর্তমানে প্রতি কেজি ৮৫০ টাকায় বিক্রি হলেও কোথাও কোথাও তা ১ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ৮০ টাকা বেশি। খাসির মাংসও বেড়ে ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কেজিতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি।

মুরগির বাজারেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগি ২১০ থেকে ২২০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।

বিজ্ঞাপন

মাছের বাজারেও দাম বেড়েছে প্রায় সব ধরনের মাছের। পোয়া মাছ ৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, পাঙাশ ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা এবং রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গলদা চিংড়ি ছোট আকারে ১ হাজার এবং বড় আকারে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি। এছাড়া টেংরা ৭০০ টাকা ও পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা গেছে মশলার বাজারে। কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় সব মশলার দাম কেজিতে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এলাচের দাম বেড়ে প্রতি কেজি প্রায় ৫ হাজার টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এছাড়া দারুচিনি ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা, জয়ত্রি ৪ হাজার টাকা, জায়ফল ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং লবঙ্গ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জিরা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, ধনিয়া ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং তেজপাতা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

শুকনো ফলের বাজারেও একই চিত্র। কিশমিশ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, আলুবোখারা ১ হাজার ৪০০ টাকা, কাজুবাদাম ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, কাঠবাদাম ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং পেস্তা ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। বিক্রেতারা দ্রুত পণ্য বিক্রি করে গ্রামে ফিরতে চাইছেন বলে তুলনামূলক কম দামে সবজি বিক্রি করছেন। বর্তমানে পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৪০ টাকা, আলু ১৮ থেকে ২০ টাকা, টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। শসা ৩৫ থেকে ৫০ টাকা এবং বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং লেবু প্রতি হালি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কম থাকায় খোলা তেলের দাম বেড়ে লিটারপ্রতি ২১৫ থেকে ২২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। চিনির দামও কিছুটা বেড়েছে—বিদেশি চিনি ১০০ থেকে ১০৫ টাকা এবং দেশি চিনি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ঈদের অন্যতম অনুষঙ্গ সেমাইয়ের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। ২০০ গ্রাম প্যাকেট সেমাই ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ৮০০ গ্রাম বোম্বাই সেমাই ২৮০ টাকা এবং খোলা লাচ্ছা সেমাই ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া সুগন্ধি চালের দামও বেড়েছে। চিনিগুঁড়া চালের প্যাকেট ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা এবং খোলা চাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েকদিন আগের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD