বিশ্ববাজারে সোনার বড় পতন, দেশের বাজারেও আগেই কমেছে দাম

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। একদিনের ব্যবধানে মূল্য কমেছে ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যার ফলে প্রতি আউন্স সোনার দাম নেমে এসেছে সাড়ে ৪ হাজার ডলারের নিচে। আন্তর্জাতিক বাজারে সাম্প্রতিক এই মূল্যহ্রাস বিনিয়োগকারী ও স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিশ্বব্যাপী স্বর্ণ ও রুপার দামের তথ্য প্রকাশকারী নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট ‘গোল্ডপ্রাইস’-এর তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ প্রতি আউন্স সোনার দাম ১০৯ ডলার কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৯৪ ডলারে। এর আগের দিন প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৬০০ ডলারের বেশি ছিল। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে বাজারে বড় ধরনের সমন্বয় দেখা গেছে।
গত এক সপ্তাহের ব্যবধানেও স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন হয়েছে। ১৪ মার্চ প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ৫ হাজার ২০ ডলার। সেই হিসাবে এক সপ্তাহে মূল্য কমেছে ৫২৬ ডলার, যা প্রায় ১০ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাসের সমান। আন্তর্জাতিক বাজারে সাম্প্রতিক ওঠানামা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে দেশের বাজারেও সম্প্রতি সোনার দাম কমানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) একদিনে দুদফা দাম কমানোর ঘোষণা দেয়। এতে সর্বোচ্চ প্রতি ভরিতে ১৫ হাজার ৩৩৮ টাকা পর্যন্ত মূল্য হ্রাস করা হয়। এর ফলে ২২ ক্যারেট মানের এক ভরি সোনার দাম কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা।
বর্তমানে নির্ধারিত সেই দামেই দেশের বাজারে সোনা বিক্রি হচ্ছে। নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ২১ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকায়।
শুধু সোনাই নয়, একই দিনে রুপার দামও কমানো হয়েছে। নতুন দরে ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপা ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চলতি মাসের শুরুতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে বিশ্ববাজারে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। পরবর্তীতে মূল্য সমন্বয়ের কারণে বাজারে ওঠানামা শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা যাচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম বেড়ে ৫ হাজার ২০০ ডলারে পৌঁছায় এবং ২৯ জানুয়ারি তা ৫ হাজার ৫৫০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি ছিল।
বিজ্ঞাপন
বিশ্ববাজারে দামের অস্বাভাবিক উল্লম্ফনের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ে। জানুয়ারির শেষ দিকে বাজুস এক ধাপে প্রতি ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এতে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্য হিসেবে বিবেচিত হয়। এক ধাপে সোনার দামে এত বড় বৃদ্ধি এর আগে কখনো দেখা যায়নি।








