Logo

বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট, মুরগি ও সবজির দামে ঊর্ধ্বমুখী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৯
বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট, মুরগি ও সবজির দামে ঊর্ধ্বমুখী
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে মুরগি ও সবজির দামও রয়েছে ঊর্ধ্বমুখী। ফলে নিত্যপণ্যের বাজারে গিয়ে চাপে পড়ছেন সীমিত আয়ের মানুষ।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার ঢাকার বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৫ লিটারের বোতল কিছু দোকানে মিললেও সরবরাহ তুলনামূলক কম। আধা লিটার, এক ও দুই লিটারের বোতল অধিকাংশ দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হলেও তা নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।

সরকারি হিসেবে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা, খোলা সয়াবিন ১৭৬ টাকা এবং পাম তেল ১৬৪ টাকা নির্ধারিত। তবে বাজারে খোলা সয়াবিন ২০০ থেকে ২১০ টাকা এবং পাম তেল ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, ডিলাররা তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। প্রায় এক মাস ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও গত কয়েক দিনে অনেক ক্ষেত্রে অর্ডার নেওয়াও বন্ধ হয়ে গেছে।

রামপুরা এলাকার এক দোকানি জানান, কোম্পানিগুলো সরাসরি তেলের অর্ডার নিচ্ছে না। কিছু ক্ষেত্রে তেল নিতে হলে অন্য পণ্যও কিনতে হচ্ছে। তাই পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে তেল এনে বিক্রি করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তেল না থাকলে ক্রেতারা অন্য পণ্যও কম কেনেন। এতে বিক্রি কমে যাচ্ছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও ঈদের পর থেকে সোনালি মুরগির দাম ছিল রেকর্ড উচ্চতায়। যদিও গত সপ্তাহের তুলনায় এখন কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক দিন আগেও ৪৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।

খামারিদের দাবি, বিভিন্ন রোগে মুরগি মারা যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে। বিক্রেতাদের মতে, দাম বেড়ে যাওয়ায় সোনালি মুরগির চাহিদাও কমে গেছে।

অন্যদিকে, ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে ১৮৫ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কিছুদিন আগে ২২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।

বিজ্ঞাপন

ডিমের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১১০ টাকার মধ্যে। কিছু খুচরা দোকানে ডজনপ্রতি ১২৫ থেকে ১৩০ টাকাও নেওয়া হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে সবজির দামও বেড়েছে। অধিকাংশ সবজি এখন ৮০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে আলু ২৫ টাকা এবং পেঁপে ও গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বাজারে পটোল ও ঢ্যাঁড়স ৬০ থেকে ৮০ টাকা, সিম ও সজিনা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, বরবটি ও করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কাকরোল ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দামে। কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD