Logo

জ্বালানিতে ভর্তুকির বাইরেও লাগবে ৩৬ হাজার কোটি টাকা: অর্থমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৪:৩৭
জ্বালানিতে ভর্তুকির বাইরেও লাগবে ৩৬ হাজার কোটি টাকা: অর্থমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে ভর্তুকির চাপ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরের মার্চ থেকে জুন সময়সীমায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও এলএনজি খাতে নির্ধারিত ভর্তুকির বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধির আলোচনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় এই অতিরিক্ত ভর্তুকির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এর ফলে বাজেট ঘাটতি আরও বাড়বে এবং প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অতিরিক্ত আমদানি ব্যয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১০ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

এই পরিস্থিতিতে সরকারকে মার্চ–জুন সময়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও এলএনজি খাতে নির্ধারিত ভর্তুকির বাইরে আরও প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। এতে একদিকে বাজেট ঘাটতি বাড়বে, অন্যদিকে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের আমদানি ব্যয় পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও প্রভাব পড়বে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এ অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জনগণকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে উৎসাহিত করছে এবং বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস-আদালত বিকেল ৫টার পরিবর্তে ৪টায় বন্ধ করা, দিনের আলো ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, এসির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মার্কেট ও সুপারমল সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করা, বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে নিরাপত্তা মজুত নিশ্চিত করা, সময়মতো ভর্তুকি ছাড় দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি ক্রয় অব্যাহত রাখা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বাজেট সহায়তা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, আমদানিনির্ভর অর্থনীতি হিসেবে বাংলাদেশ এই বৈশ্বিক বাস্তবতার বাইরে নয়। জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে অতিরিক্ত ভর্তুকির প্রয়োজন হলেও জনগণের স্বার্থে সরকার আপাতত বিদ্যমান জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্য অপরিবর্তিত রেখেছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে এবং সরকার সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত।

তিনি আরও জানান, অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও চাপ মোকাবিলা করে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি, পাশাপাশি বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় রাখতে হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু প্রবৃদ্ধি নয়; বরং একটি টেকসই, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা এবং খালেদা জিয়ার সময়ে গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশ, বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রবেশ, মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রসার, ভ্যাট ব্যবস্থা চালু, শুল্ক ও আমদানি কাঠামোর আধুনিকায়ন এবং বেসরকারি বিনিয়োগবান্ধব নীতির মাধ্যমে অর্থনীতির ভিত্তি শক্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহির ভিত্তিতে অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। জনগণের আস্থার প্রতিদান দেওয়াই সরকারের প্রধান দায়িত্ব।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD