আম উৎপাদনে বাংলাদেশ ভাঙতে পারে অতীতের সব রেকর্ড

অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে দেশে আমের বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।
বিজ্ঞাপন
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ লাখ ৬৬ হাজার মেট্রিক টন। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর সেই লক্ষ্য ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: দেশে ২০ দিনে এলো জ্বালানি তেলের ১২ জাহাজ
গত বছর বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৮টি দেশে ২ হাজার ১৯৪ মেট্রিক টন আম রপ্তানি করেছিল, যা ছিল একটি রেকর্ড। এবার রপ্তানির লক্ষ্য আরও বাড়ানো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের ধারণা, এ বছর ৩ হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত আম রপ্তানি সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি মালয়েশিয়া ও জাপানের নতুন বাজারেও প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ডিএই’র ‘রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প’ পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, এ বছর দেশে প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং বড় কোনো সমস্যা দেখা যায়নি।

তিনি আরও জানান, মে মাস থেকে আম সংগ্রহ শুরু হয়ে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, সাতক্ষীরা ও দিনাজপুর প্রধান উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে রয়েছে।
তার মতে, কালবৈশাখি ঝড় না হলে এবার ২৭ লাখ মেট্রিক টনের বেশি আম উৎপাদন সম্ভব। পাশাপাশি রপ্তানিতেও নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: ভোক্তা পর্যায়ে আবারও বাড়ল এলপিজির দাম
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার একজন আমচাষি জানান, এবারের আবহাওয়া আমের জন্য বেশ অনুকূল। সময়মতো তাপমাত্রা বৃদ্ধি, স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত এবং বড় কোনো দুর্যোগ না থাকায় গাছে মুকুলের পরিমাণ বেশি এবং গুটি ঝরাও কম হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক বাগান মালিকও আশা প্রকাশ করে বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও আধুনিক চাষাবাদের কারণে এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ডিএই’র তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে দেশে আম উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে রপ্তানি এখনো তুলনামূলক কম হলেও ধীরে ধীরে বাড়ছে। যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্স, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরবসহ ৩৮টির বেশি দেশে বাংলাদেশের আম রপ্তানি হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সহায়তার কারণে উৎপাদন বাড়ছে। তবে রপ্তানিতে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যা সমাধানে সরকার কাজ করছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: বাসস








