Logo

পশুর হাটে জাল নোট ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ নির্দেশনা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ মে, ২০২৬, ১৮:৫৯
পশুর হাটে জাল নোট ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ নির্দেশনা
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের পশুর হাটগুলোতে জাল নোটের বিস্তার রোধে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোরবানির পশু কেনাবেচার সময় জাল টাকা শনাক্ত ও প্রতিরোধে তপশিলি ব্যাংকগুলোর জন্য ১০ দফা নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১০ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ দেশের সব তপশিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে। এতে পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপন, অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব প্রদান এবং নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাটে বিপুল অঙ্কের নগদ লেনদেন হয়ে থাকে। এই সুযোগে সক্রিয় হয়ে ওঠে জাল নোট চক্র। তাই ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

নির্দেশনা অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত পশুর হাটগুলোতে জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিনসহ বিশেষ বুথ বসাতে হবে। এসব বুথে ব্যাংকের অভিজ্ঞ ক্যাশ কর্মকর্তারা হাট শুরুর দিন থেকে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে নোট যাচাই সেবা দেবেন। এই সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত কর্মকর্তাদের নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বরসহ সমন্বয়কারী কর্মকর্তার তথ্য আগামী ১৭ মে’র মধ্যে ই-মেইলে পাঠাতে হবে। সংশ্লিষ্ট সমন্বয়কারী কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদারকি করবেন।

ঢাকার বাইরে যেসব জেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক অফিস রয়েছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট অফিসের তত্ত্বাবধানে একই ধরনের বুথ স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর যেসব জেলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফিস নেই, সেখানে সোনালী ব্যাংকের চেস্ট শাখাগুলো দায়িত্ব বণ্টন করবে। সে অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যাংকের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শাখাগুলোকে পশুর হাটে নোট যাচাই সেবা দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া হাটে স্থাপিত বুথগুলোতে নোট কাউন্টিং মেশিনের মাধ্যমে নগদ অর্থ গণনার সুবিধাও রাখতে বলা হয়েছে। এতে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা দ্রুত ও নিরাপদে টাকা গুনতে পারবেন।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বুথ স্থাপন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন, ইজারাদার, পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও আনসার সদস্যদের সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

কোনো বুথে জাল নোট শনাক্ত হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বের পরিপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি বুথে ব্যাংকের নামসহ ‘জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ’ লেখা ব্যানার বা নোটিশ টানানোর কথা বলা হয়েছে।

গ্রাহকদের সচেতন করতে ব্যাংক নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যসংবলিত ভিডিও ঈদের আগ পর্যন্ত প্রতিদিন ব্যাংক শাখার টিভি মনিটরে প্রদর্শনের নির্দেশও দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে সাধারণ মানুষ আসল ও জাল নোট চেনার বিষয়ে ধারণা পাবেন বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও ব্যাংকগুলোকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঈদুল আজহার পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সব কার্যক্রমের বিস্তারিত প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ মৌসুমে পশুর হাটে হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। এই সময় জাল নোট চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠায় সাধারণ মানুষ প্রায়ই প্রতারণার শিকার হন। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগ জাল নোট প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD