Logo

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে বড় সুখবর

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ মে, ২০২৬, ১৩:৩৪
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে বড় সুখবর
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের চাপ ও অস্থিরতার পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ইতিবাচক ধারায় ফিরছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতিতে দেশের ব্যবহারযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

বিজ্ঞাপন

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবার (৭ মে) পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। আর আইএমএফের মানদণ্ড অনুযায়ী প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ রয়েছে ৩০ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের মতে, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, রপ্তানি খাতে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয়ে নিয়ন্ত্রণ আসায় রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এর ফলে বৈদেশিক লেনদেনে চাপ কমছে এবং ডলারের বাজারেও ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহও বেড়েছে। পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয়, বৈদেশিক ঋণ ও উন্নয়ন সহায়তার অর্থ ছাড় পাওয়াও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

এদিকে অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসপণ্যের আমদানি কমে যাওয়ায় ডলারের চাহিদাও কিছুটা কমেছে। ফলে বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আগের মতো অতিরিক্ত ডলার বিক্রি করতে হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, রিজার্ভ বাড়া মানে দেশের আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা শক্তিশালী হওয়া। বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে কয়েক মাসের আমদানি ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হবে বলেও মনে করছেন তারা।

তাদের মতে, শক্তিশালী রিজার্ভ আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থা ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও ইতিবাচক বার্তা দেয়। এতে দেশের আর্থিক সক্ষমতা ও বৈদেশিক লেনদেনে আস্থা বাড়ে।

অর্থনীতিবিদরা আরও বলছেন, রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতি হলে ডলারের বাজারে অস্থিরতা কমবে, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে। কারণ ডলারের দাম বাড়লে আমদানিনির্ভর পণ্যের দামও বেড়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, উচ্চ আমদানি ব্যয় ও ডলারের বাড়তি চাহিদার কারণে পরবর্তী সময়ে রিজার্ভ দ্রুত কমে যায়।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে বাজারে ডলার বিক্রি, আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। সাম্প্রতিক সময়ে সেই পদক্ষেপগুলোর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংক সাধারণত দুই ধরনের রিজার্ভ হিসাব প্রকাশ করে। গ্রস রিজার্ভে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট বৈদেশিক মুদ্রা ও সম্পদের হিসাব অন্তর্ভুক্ত থাকে, যেখানে বিভিন্ন তহবিল ও স্বল্পমেয়াদি দায়ও ধরা হয়।

অন্যদিকে, বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে শুধু ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসাব করা হয়। অর্থাৎ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব নয়— এমন অর্থ এতে অন্তর্ভুক্ত থাকে না।

আরও পড়ুন:

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে বিপিএম-৬ হিসাবকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD