Logo

নিত্যপণ্যের দামে অস্বস্তি, ডিম-সবজিতেও ‘আগুন’

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ মে, ২০২৬, ১২:৪৪
নিত্যপণ্যের দামে অস্বস্তি, ডিম-সবজিতেও ‘আগুন’
ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর থেকেই বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সবজি, ডিম, চালসহ আরও কয়েকটি পণ্যের দাম নতুন করে বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। খিলগাঁও তালতলা বাজারের ক্রেতা আমিনুর রহমান বলেন, বাজারে এলেই মনে হয় পকেট কাটা যাচ্ছে। সবজির দাম বেশি দেখে ডিম কিনতে গিয়েও স্বস্তি নেই। গত সপ্তাহে যে ডিমের ডজন ১৩০ টাকায় কিনেছেন, এখন সেটি ১৫০ টাকা চাওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সংসার চালানো এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। মাছ-মাংস তো অনেক আগেই কমাতে হয়েছে, এখন ডিম কিংবা সস্তা খাবার দিয়েও খরচ সামলানো যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

বিক্রেতাদের দাবি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। ফলে বাজারে দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে ডিম ও চালের দামও বাড়তি। গত এক সপ্তাহে ডিমের দাম ডজনে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চালের দামও কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বেড়েছে।

রাজধানীর খিলগাঁও, সেগুনবাগিচা ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা। রমজানের সময় একই ডিম বিক্রি হয়েছিল প্রায় ১১০ টাকায়।

বাজারে আলু ও পেঁপে ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ৮০ টাকার ওপরে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সবজির দাম বাড়লে নিম্নআয়ের মানুষ প্রোটিনের জন্য ডিমের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। সেই সুযোগেই ডিমের চাহিদা ও দাম দুটোই বেড়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায়। সেগুনবাগিচা বাজারের বিক্রেতা আব্দুর রহিম বলেন, বৃষ্টির কারণে জেলা থেকে সবজি কম আসছে। সবজির দাম বেশি হওয়ায় মানুষ ডিম বেশি কিনছে, ফলে গত কয়েকদিনে ডিমের দাম দ্রুত বেড়েছে।

চালের বাজারেও স্বস্তি নেই। বোরো ধান কাটা শুরু হলেও বাজারে তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। মাঝারি মানের চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৬৮ টাকা এবং মোটা চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত এক মাসে মাঝারি চালের দাম প্রায় ৪ শতাংশ এবং মোটা চালের দাম সাড়ে ৯ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

ভোজ্যতেলের বাজারেও সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হলেও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তাদের লাভের পরিমাণ কমে গেছে। ফলে অনেক দোকানে তেলের সরবরাহ কমে এসেছে।

অন্যদিকে গরুর মাংস এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। রাজধানীতে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকায়। খাসির মাংসের দাম ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা।

বিজ্ঞাপন

মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী দাম। এক কেজি ওজনের রুই বা কাতলা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। পাঙাশ ও তেলাপিয়াও ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা রেহানা পারভীন বলেন, এখন বাজারে গিয়ে শুধু হিসাব মেলাতে হয়। ব্যাগ ভরার মতো সাশ্রয়ী পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না। মাছ-মাংসের দাম এত বেশি যে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD