দেশে এলো বড় চালানের ক্রুড অয়েল, স্বস্তি ফিরছে জ্বালানি খাতে

দীর্ঘ প্রায় দুই মাস পর দেশে পৌঁছেছে বড় পরিসরের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চালান। সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল নিয়ে আসা জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর পর বৃহস্পতিবার (৭ মে) থেকে তেল খালাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই চালান দেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির কার্যক্রমও আবার গতি পাবে।
চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) জেটিতে তেল খালাস শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত দুই মাসে দেশে কোনো ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ পৌঁছাতে পারেনি। এতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
আরও পড়ুন: দেশের বাজারে ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরি কত?
বিজ্ঞাপন
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প রুট ব্যবহার করে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে তেলবাহী জাহাজ পাঠানো হয়। চীনা জাহাজ ‘নিনেমিয়া’ গত ২১ এপ্রিল সৌদি আরব থেকে যাত্রা শুরু করে। প্রায় ১৫ দিনের সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে বুধবার দুপুরে এটি চট্টগ্রাম বন্দরের কুতুবদিয়া অ্যাঙ্করেজে নোঙর করে।
তেল দ্রুত খালাসের জন্য ইতোমধ্যে ছয়টি লাইটার জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি জাহাজ একবারে প্রায় চার হাজার টন করে তেল পরিবহন করতে সক্ষম। সে হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ২৪ হাজার টন ক্রুড অয়েল খালাস করা সম্ভব হবে।
বিজ্ঞাপন
জ্বালানি পরিবহন ও সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)। কুতুবদিয়া এলাকা থেকে পতেঙ্গার ইস্টার্ন রিফাইনারি পর্যন্ত ধাপে ধাপে তেল পরিবহন করা হচ্ছে।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, চলতি মাসেই আরও দুটি জাহাজে প্রায় দুই লাখ টন অপরিশোধিত তেল দেশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এতে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ বিরতির পর বড় এই চালান দেশে পৌঁছানোয় বাজারে চাপ কমবে এবং রিফাইনারি কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সহজ হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করছেন।







