Logo

বেসরকারি মালিকানায় হস্তান্তর করা হবে অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ মে, ২০২৬, ২০:১০
বেসরকারি মালিকানায় হস্তান্তর করা হবে অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে বিপুল পরিমাণ জমি অলস পড়ে আছে উল্লেখ করে সেগুলো ধাপে ধাপে বেসরকারি মালিকানায় হস্তান্তরের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেছেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে অব্যবহৃত সম্পদ কাজে লাগিয়ে নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্যাকেজিং এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রায় ৪০টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকটির দখলে রয়েছে কয়েক হাজার বিঘা জমি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের জমির পরিমাণ ৩ হাজার একরেরও বেশি। একইভাবে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অধীনেও অন্তত ৫০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলোর কাছেও বিপুল পরিমাণ জমি অলস অবস্থায় পড়ে আছে।

তিনি বলেন, অধিকাংশ সরকারি কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে চলছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণও অনেক বেশি। তাই ধাপে ধাপে এগুলো বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

চিনিকলগুলোর উদাহরণ তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি সুগার মিলের জমির পরিমাণ এক হাজার বিঘার কম নয়। বর্তমানে এ ধরনের প্রায় ১৫টি কারখানা রয়েছে। একটি চিনিকলের জায়গাতেই অন্তত ১০টি নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলা সম্ভব। কোন প্রতিষ্ঠানের আয়তনের তুলনায় আয় ও উৎপাদন কতটুকু, তা মূল্যায়ন করেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

ব্যবসা ও শিল্প খাতের সমস্যার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, উদ্যোক্তাদের জন্য বড় দুটি চ্যালেঞ্জ হলো জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং উৎপাদন ব্যয়ের উচ্চহার। নিবন্ধন ও অনুমোদন প্রক্রিয়াকে সহজ করতে বিভিন্ন সেবা একটি প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে উৎপাদন ব্যয় কমানোর দিকেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

প্যাকেজিং শিল্প নিয়ে তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বে প্যাকেজিং শুধু মোড়ক হিসেবে নয়, বরং পণ্যের গুণগত মান, ব্র্যান্ড পরিচিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাই এ খাতকে প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধবভাবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই এক্সপো বাংলাদেশের শিল্পখাতের সম্ভাবনা তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, সরকার ২০২৬ সালের জন্য সংশ্লিষ্ট পণ্যকে ‘বর্ষপণ্য’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। চলতি বছরজুড়ে এ খাতের রপ্তানি বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাফিউস সামি আলমগীর বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য প্যাকেজিং শিল্পে মান নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থার ওপর জোর দিতে হবে। বর্তমানে দেশে এই শিল্পের বাজার প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার এবং এতে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববাজারে এ শিল্পের আকার ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ যদি এর মাত্র এক শতাংশ বাজারও অর্জন করতে পারে, তাহলে এ খাতের সম্ভাব্য বাজার দাঁড়াবে ১৩ বিলিয়ন ডলারে।

এক্সপোনেট এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হক বলেন, এই আয়োজন উদ্যোক্তা, প্রযুক্তি সরবরাহকারী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরি করবে এবং ব্যবসার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে প্লাস্টিক শিল্পে ৬ হাজারের বেশি উৎপাদন ইউনিট রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪৫০টি রপ্তানিমুখী। এই খাত প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার ৮০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করছে।

বিজ্ঞাপন

আয়োজকদের মতে, বিশ্বব্যাপী পরিবেশবান্ধব ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্যাকেজিংয়ের চাহিদা বাড়তে থাকায় বাংলাদেশের জন্য নতুন রপ্তানি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এক্সপোতে প্যাকেজিং প্রযুক্তি, কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন উদ্ভাবনী সমাধান তুলে ধরা হয়।

সংশ্লিষ্টদের আশা, এই আয়োজন দেশের প্যাকেজিং শিল্পকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত করতে সহায়ক হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD