ঈদ ঘনিয়ে এলেও নেই চাঙাভাব, কমেছে মসলার দাম

কোরবানির ঈদ ঘিরে প্রতি বছরই রাজধানীর মসলার বাজারে বাড়তি চাহিদা ও দামের চাপ দেখা যায়। বিশেষ করে এলাচ, জিরা, দারুচিনি, গোলমরিচ, জায়ফলসহ নানা গরম মসলার বিক্রি বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তবে এবার চিত্র একেবারেই ভিন্ন। বাজারে অধিকাংশ মসলার দাম কমেছে, একই সঙ্গে কমেছে ক্রেতার আনাগোনা ও বেচাকেনা। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বিজ্ঞাপন
রাজধানীর পুরান ঢাকার অন্যতম বৃহৎ পাইকারি মসলা বাজার মৌলভীবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে দোকানগুলোতে পর্যাপ্ত পণ্য মজুত থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম। ব্যবসায়ীদের দাবি, গত দুই বছরের তুলনায় এবার বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় বেশিরভাগ মসলার দাম নিম্নমুখী।
ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে মানভেদে এলাচ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ৮০০ টাকা থেকে পাঁচ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে। গত বছরের তুলনায় একই মানের এলাচের দাম কয়েকশ টাকা কমেছে। মধ্যমানের এলএমজি এলাচ এখন বিক্রি হচ্ছে প্রায় চার হাজার ১০০ টাকায়, যা কয়েক সপ্তাহ আগেও ছিল আরও বেশি। একইভাবে কম মানের এসএমজি এলাচের দামও কমেছে।
আরও পড়ুন: আজকের মুদ্রার দর : ৯ মে ২০২৬
বিজ্ঞাপন
মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু এলাচ নয়—জিরা, লবঙ্গ, গোলমরিচ, দারুচিনি, কিসমিস, কাঠবাদাম, কাজুবাদামসহ প্রায় সব ধরনের মসলার দাম কমতির দিকে। বর্তমানে ভারতীয় জিরা প্রতি কেজি ৫১৫ টাকা এবং আফগান জিরা ৬৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে প্রায় এক হাজার ৩০০ টাকা, কালো গোলমরিচ এক হাজার ৩০ টাকা এবং সাদা গোলমরিচ এক হাজার ২৩০ টাকায়।
জায়ফল মানভেদে ৮০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, কাঠবাদাম ও কাজুবাদাম প্রায় এক হাজার ৩০০ টাকা, সোনালি কিসমিস ৮০০ টাকা এবং লম্বা কিসমিস ৭৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মেথি, ধনিয়া, মৌরি ও দারুচিনির দামও আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় আমদানি বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে। ফলে সরবরাহ বাড়ায় দামও কমে এসেছে। তবে দাম কমলেও বিক্রি আশানুরূপ না হওয়ায় হতাশ তারা।
বিজ্ঞাপন
একাধিক ব্যবসায়ী জানান, কোরবানির ঈদের আগে সাধারণত বাজারে তীব্র ব্যস্ততা থাকে। কিন্তু এবার সেই চাপ নেই। আগে এই সময়ে দোকান সামলাতে হিমশিম খেতে হতো, এখন অনেক সময় ক্রেতাশূন্য বসে থাকতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অবৈধ পথে ভারত থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের মসলা দেশে ঢুকছে। এসব পণ্যে শুল্ক বা কর না থাকায় কম দামে বিক্রি সম্ভব হচ্ছে। এতে বৈধ আমদানিকারক ও পাইকাররা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছেন না। পাশাপাশি সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে বলে দাবি তাদের।
বিজ্ঞাপন
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, আলু বোখারার দামেও বড় ধরনের পতন হয়েছে। আগে যে পণ্য বিক্রি হতো অনেক বেশি দামে, এখন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় এক হাজার ৫০ টাকায়। একইভাবে দাম কমেছে বিভিন্ন ধরনের এলাচেরও। এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন অনেক ব্যবসায়ী।
দারুচিনির বাজারেও রয়েছে ভিন্নতা। বর্তমানে চীন থেকে আমদানি হওয়া ভাঙা দারুচিনি এবং ভিয়েতনাম থেকে আসা আস্ত দারুচিনি—দুই ধরনের পণ্য বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, আস্ত দারুচিনির দাম ভাঙা দারুচিনির তুলনায় কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা বেশি। বর্তমানে চীনা দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৪০ টাকায়, আর ভিয়েতনামের আস্ত দারুচিনি ৪২০ টাকায়। গত বছরের তুলনায় দুই ধরনের দারুচিনির দামই কমেছে।
তবে গোলমরিচের বাজারে কিছুটা ব্যতিক্রম দেখা গেছে। বর্তমানে ভিয়েতনাম থেকে আমদানি হওয়া কালো গোলমরিচের দাম গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। আগে প্রতি কেজি ৯৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৩০ টাকা। অন্যদিকে সাদা গোলমরিচের দাম কিছুটা কমে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে প্রায় এক হাজার ২২০ টাকায়।








