Logo

ব্যাংকে না গিয়ে ঘরে বসেই মিলবে ঋণ, চালু হচ্ছে ‘ই-লোন’ সেবা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ মে, ২০২৬, ২০:০৯
ব্যাংকে না গিয়ে ঘরে বসেই মিলবে ঋণ, চালু হচ্ছে ‘ই-লোন’ সেবা
ছবি: সংগৃহীত

দেশে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গ্রাহকদের জন্য পুরোপুরি অনলাইনভিত্তিক ‘ই-লোন’ বা ই-ঋণ সেবা চালুর নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে এখন থেকে ঘরে বসেই মোবাইল অ্যাপ কিংবা ব্যাংকের ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ঋণের আবেদন, অনুমোদন এবং অর্থ গ্রহণের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও গ্রাহকবান্ধব করতে ব্যাংকগুলোকে ই-লোন কার্যক্রম চালু করতে হবে। ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থার সম্প্রসারণের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। এ ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১২ মাস নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় সুদের হার নির্ধারণ করতে পারবে। তবে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার আওতায় দেওয়া ঋণের ক্ষেত্রে গ্রাহক পর্যায়ে সুদের সর্বোচ্চ হার ৯ শতাংশের বেশি হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, ঋণ বিতরণ থেকে শুরু করে কিস্তি পরিশোধসহ সব কার্যক্রম সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালনা করতে হবে। গ্রাহকের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র, বায়োমেট্রিক তথ্য এবং অন্যান্য ডিজিটাল যাচাইকরণ ব্যবস্থা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এছাড়া ঋণ অনুমোদনের আগে গ্রাহকের ঋণ তথ্য ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদন যাচাই করতে হবে। যেসব গ্রাহক খেলাপি ঋণগ্রহীতা হিসেবে চিহ্নিত, তারা এ সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন না।

বিজ্ঞাপন

গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নির্দেশনায়। ব্যাংকগুলোকে ঋণের সুদ, ফি, সার্ভিস চার্জ, বিলম্ব মাশুল কিংবা আগাম ঋণ পরিশোধ সংক্রান্ত সব তথ্য আগেই স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। গ্রাহকের সম্মতি ছাড়া কোনো অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (২এফএ), মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (এমএফএ) এবং ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) ব্যবস্থার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বিজ্ঞাপন

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ই-লোন সেবা চালুর আগে প্রতিটি ব্যাংককে নিজস্ব নীতিমালা তৈরি করতে হবে এবং পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা নিশ্চিত করার পরই এ সেবা চালু করা যাবে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ক্ষুদ্র ও খুচরা ঋণ বিতরণ ব্যবস্থায় গতি আসবে। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক গ্রাহকরা দ্রুত ও সহজে ঋণ সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে ব্যাংকিং সেবায় সময় ও ব্যয় কমবে এবং নগদ টাকার ওপর নির্ভরশীলতাও হ্রাস পাবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD