বিশ্ববাজারে আবারও কমলো সোনার দাম, দেশে ভরি কত?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা প্রত্যাশিত অগ্রগতি না পাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও কমেছে সোনার দাম।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে স্পট মার্কেটে সোনার দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৯২ দশমিক ৪৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারস ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৭০১ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়ায়।
জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া শান্তি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর প্রায় ১০ সপ্তাহ ধরে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার আশা কমে যায়। এই সংঘাতে ইরান ও লেবাননে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, তাৎক্ষণিক শান্তি চুক্তির আশা ভেঙে পড়েছে। একই সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করায় স্বর্ণের বাজার চাপের মুখে পড়েছে।
হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সংকুচিত হয়ে পড়েছে এবং এর প্রভাবে তেলের দাম বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকদের মতে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় রাখতে হতে পারে। যদিও সোনাকে সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়, তবে উচ্চ সুদের হার সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষক জিম ওয়াইকফ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জবাব প্রত্যাখ্যান করার পর মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে সীমাবদ্ধতাও এই চাপ বাড়াচ্ছে এবং তা স্বর্ণের বাজারের বিপক্ষে কাজ করছে। কারণ উচ্চ মূল্যস্ফীতি সুদের হার দীর্ঘ সময় উঁচু রাখতে পারে।
নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত হলেও উচ্চ সুদের হার সোনার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। কারণ এতে সুদবিহীন সম্পদ ধরে রাখার সুযোগ ব্যয় বেড়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
অন্যান্য ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮২ দশমিক ৮৪ ডলারে পৌঁছেছে। এ ছাড়া প্লাটিনাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৭১ দশমিক ৭০ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪৯৪ দশমিক ৯৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
দেশের বাজারেও সোনার দামে পরিবর্তন রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।








