রিজার্ভ চুরি ঘটনায় গ্রেপ্তার হতে পারে ১০ বাংলাদেশি

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বহুল আলোচিত মামলায় খসড়া অভিযোগপত্রে নাম থাকা দেশের ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অভিযোগপত্র চূড়ান্ত হলে দেশীয় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিজ্ঞাপন
সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি ও প্রধান আলী আকবর খান জানিয়েছেন, মামলাটির তদন্ত দীর্ঘ ও জটিল ছিল, কারণ এটি সাধারণ কোনো ফৌজদারি মামলা নয়, বরং এর সঙ্গে গভীর প্রযুক্তিগত বিষয় জড়িত। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় তদন্ত এগিয়েছে এবং বিদেশি প্রতিবেদন সংগ্রহেও সময় লেগেছে। বর্তমানে তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শিগগিরই অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, অভিযোগপত্র দাখিলের পর বাংলাদেশি যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম থাকবে, তাদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে গ্রেপ্তারের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে নেই।
বিজ্ঞাপন
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, খসড়া অভিযোগপত্রে মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ১০ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ অন্তত ৯ জন কর্মকর্তা রয়েছেন বলে জানা গেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুতর ঘাটতি ছিল। বিশেষ করে সুইফট সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ফিশিং লিংক থেকে আসা ঝুঁকি মোকাবিলা এবং ঘটনার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়। সুইফট পেমেন্ট সিস্টেমে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে অজ্ঞাত হ্যাকাররা এ অর্থ সরিয়ে নেয়। ঘটনার ৩৯ দিন পর বাংলাদেশ ব্যাংক মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে, যা শুরু থেকেই তদন্ত করছে সিআইডি।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ব্যাংকের কাজ শেষে নিরাপত্তা প্রটোকল ঠিকভাবে অনুসরণ করেননি এবং ফিশিং লিংকে ক্লিক করার পর সেটি সক্রিয় অবস্থায় রেখে চলে যান—যা পরবর্তীতে হ্যাকারদের সুযোগ করে দেয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনার পর বিষয়টি জানার পরও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে দেরি এবং তথ্য গোপনের চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে।
সিআইডি সূত্র জানায়, তদন্ত কার্যক্রমে সহায়তার জন্য গত বছরের ১১ মার্চ একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। পরে ওই কমিটির তত্ত্বাবধানে তদন্ত শেষ করে চলতি বছরের ১ এপ্রিল খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয় এবং আইনি মতামতের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
বিজ্ঞাপন
খসড়া অভিযোগপত্রে ফিলিপাইন, চীন, শ্রীলঙ্কা, ভারত, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের ব্যক্তিদের নামও রয়েছে। তবে বাংলাদেশ অংশে মূলত ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবহেলাকেই প্রধানত দায়ী করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি হিসেবে পরিচিত এই রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দীর্ঘ সময় ধরে দেশি-বিদেশি প্রযুক্তিগত ও আর্থিক দিক বিশ্লেষণ করে তদন্ত চালানো হয়েছে। অভিযোগপত্র চূড়ান্ত হলে মামলাটি নতুন আইনি ধাপে প্রবেশ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








