শ্রীপুরে কাঁঠালের বিস্কুটে সাড়া, নতুন সম্ভাবনা দেখছেন উদ্যোক্তা

দেশের ৪৭তম জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে স্বীকৃত জাতীয় ফল কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তার।
বিজ্ঞাপন
কাঁঠাল দিয়ে তৈরি করেছেন বিশেষ ধরনের বিস্কুট, যা বাজারে আসার পর থেকেই অফলাইন ও অনলাইন—উভয় মাধ্যমে ক্রেতাদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছে। চাহিদা বাড়তে থাকায় আগামী মৌসুমে উৎপাদনের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন তিনি।
শ্রীপুর পৌর এলাকার বৈরাগীরচালা গ্রামের ‘মোহতাহিনা ফুড’ কারখানায় এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে কাঁঠালের বিস্কুট উৎপাদন শুরু করেন আব্দুস সাত্তার। চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০০টি কাঁঠাল ব্যবহার করে বিস্কুট তৈরি করা হয়েছে। বাজারজাতের পর থেকেই নতুন এই পণ্যটি ক্রেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তার জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিদেশ ভ্রমণের প্রতি তার আগ্রহ ছিল। গত বছর চীন সফরের সময় কাঁঠাল থেকে তৈরি নানা ধরনের খাদ্যপণ্য দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হন। দেশে ফিরে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কাঁঠাল অবহেলায় নষ্ট হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এর মূল্য সংযোজনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সেই চিন্তা থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে কাঁঠালের বিস্কুট উৎপাদন শুরু করেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, প্রতিটি বিস্কুটে প্রায় ২০ শতাংশ কাঁঠালের পাল্প ব্যবহার করা হয়। ফলে বিস্কুটে কাঁঠালের স্বাভাবিক স্বাদ ও প্রাকৃতিক সুগন্ধ বজায় থাকে, যা প্রচলিত বিস্কুট থেকে এটিকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। বর্তমানে ৮০০ গ্রাম ওজনের একটি প্যাকেট ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আব্দুস সাত্তার আরও বলেন, চীনে কাঁঠাল দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাদ্যপণ্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। এবার সীমিত পরিসরে কাঁঠালের বিস্কুট তৈরি করেছি। ভবিষ্যতে কাঁঠাল দিয়ে আরও নতুন নতুন খাদ্যপণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
ক্রেতা মাহমুদুল আলম পলমগীর জানান, কৌতূহলবশত প্রথমবার কাঁঠালের বিস্কুট কিনেছিলেন। খাওয়ার পর এর স্বাদ ও ঘ্রাণ এতটাই ভালো লেগেছে যে আবারও কিনতে এসেছেন। তার মতে, এই বিস্কুটের মাধ্যমে বছরের যেকোনো সময় কাঁঠালের স্বাদ উপভোগ করা সম্ভব।
বিজ্ঞাপন
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বর্তমানে দেশে কাঁঠাল থেকে প্রায় ৫২ ধরনের খাদ্যপণ্য উৎপাদিত হচ্ছে, যার অনেকগুলো বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে। তিনি জানান, উদ্যোক্তার এ উদ্যোগকে কৃষি বিভাগ স্বাগত জানায় এবং প্রয়োজন হলে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, কাঁঠালের মতো মৌসুমি ফলকে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে নতুন পণ্যে রূপান্তরের উদ্যোগ কৃষকদের উৎপাদিত ফলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি দেশীয় খাদ্যশিল্পে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি এবং কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।








