Logo

বাজারে নতুন প্রবণতা, গহনার বদলে সোনা কেনার ধুম

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১৩:৩২
বাজারে নতুন প্রবণতা, গহনার বদলে সোনা কেনার ধুম
ছবি: সংগৃহীত

সোনার বাজারে ক্রেতাদের আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগের মতো ভারী ওজনের গহনা কেনার প্রবণতা কমে এসেছে। উচ্চ দামের কারণে কেউ গহনা কেনা পিছিয়ে দিচ্ছেন, কেউ একই বাজেটে ছোট ও হালকা অলংকার বেছে নিচ্ছেন। আবার অনেক ক্রেতা গহনার পরিবর্তে সোনার বার, কয়েন কিংবা অন্যান্য বিনিয়োগমুখী পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন।

বিজ্ঞাপন

ভারতের সাম্প্রতিক সোনার বাজারের তথ্যেও ক্রেতাদের এই পরিবর্তিত আচরণের চিত্র উঠে এসেছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (ডব্লিউজিসি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ভারতে সোনার গহনার চাহিদা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমেছে। এই সময়ে দেশটিতে সোনার গহনার চাহিদা নেমে এসেছে ৭৫ টনে।

ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় সোনা ব্যবহারকারী দেশ। গহনা তৈরি ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশটির বাজারে সোনার আমদানিরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে বিয়ে, উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠানে সোনার গহনা কেনার দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি রয়েছে দেশটিতে। কিন্তু সোনার দাম দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে থাকায় সেই ঐতিহ্যবাহী ক্রয়প্রবণতায় পরিবর্তন এসেছে।

দাম বাড়ায় ভারী গহনায় অনাগ্রহ

বিজ্ঞাপন

সোনার দাম বাড়তে থাকাই গহনার চাহিদা কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ বলে জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল। উচ্চমূল্যের কারণে অনেক ক্রেতা প্রয়োজনীয় গহনা কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন।

যারা এখনো সোনা কিনছেন, তাদের মধ্যেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ভারী গহনার পরিবর্তে তুলনামূলক কম ওজনের অলংকারের দিকে ঝুঁকছেন অনেকেই। একই বাজেটে কম পরিমাণ সোনা কেনার মাধ্যমে ক্রেতারা খরচ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।

অর্থাৎ সোনা কেনার আগ্রহ পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। বরং উচ্চ দামের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ক্রেতারা তাদের কেনাকাটার ধরন পরিবর্তন করছেন।

বিজ্ঞাপন

কম পরিমাণ সোনা, কিন্তু ব্যয় বেশি

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ভারতে সোনার গহনার চাহিদা ছিল ১৪১ টন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই পরিমাণ ১৭ শতাংশ কম।

তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, গহনার পরিমাণ কমলেও এই সময়ে মোট ব্যয় বেড়েছে। প্রথম ছয় মাসে ভারতে সোনার গহনা কেনায় ব্যয়ের পরিমাণ ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি।

বিজ্ঞাপন

এর অর্থ হলো, ভারতীয় ক্রেতারা আগের তুলনায় কম পরিমাণ সোনা কিনলেও উচ্চমূল্যের কারণে তাদের মোট ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে কম ওজনের গহনা কেনার প্রবণতাও বাজারের পরিবর্তিত বাস্তবতাকে তুলে ধরছে।

তিন মাসের ব্যবধানে কিছুটা উন্নতি

সোনার গহনার বাজার পুরোপুরি নিম্নমুখী নয়। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে আগের তিন মাসের তুলনায় ভারতে গহনার চাহিদা ১৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে এক বছর আগের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে বাজার এখনো দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ স্বল্পমেয়াদে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা গেলেও উচ্চমূল্যের কারণে দীর্ঘমেয়াদি চাহিদায় চাপ রয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববাজারের চিত্রও খুব শক্তিশালী নয়। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে সোনার গহনার চাহিদা ছিল ২৭৮ টন। কোভিড-১৯ মহামারির পর এটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ত্রৈমাসিক চাহিদা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গহনার বদলে বিনিয়োগমুখী সোনা

সোনার গহনার চাহিদা কমলেও সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ পুরোপুরি কমেনি। বরং সোনা কেনার উদ্দেশ্য ও ধরনে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে গোল্ড এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ), সোনার বার ও কয়েনে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২৬২ টন। যদিও ওই প্রান্তিকে বিনিয়োগের পরিমাণ কিছুটা কমেছে।

তবে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের হিসাবে সোনার বার ও কয়েনে বিনিয়োগ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি হয়েছে। এতে স্পষ্ট যে গহনা হিসেবে সোনার চাহিদা কমলেও সম্পদ সংরক্ষণ বা বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে সোনার আকর্ষণ এখনো রয়েছে।

বদলে যাচ্ছে সোনা কেনার ধরন

বিজ্ঞাপন

সামগ্রিক বাজারচিত্র বলছে, উচ্চমূল্যের কারণে ক্রেতারা সোনা কেনা থেকে পুরোপুরি সরে যাচ্ছেন না। বরং প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী কেনাকাটার ধরন বদলে ফেলছেন।

একদিকে গহনার ক্ষেত্রে ভারী অলংকারের পরিবর্তে হালকা ডিজাইনের চাহিদা বাড়ছে। অন্যদিকে যারা সোনাকে বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন, তারা গহনার পরিবর্তে বার, কয়েন বা গোল্ডভিত্তিক বিনিয়োগপণ্যের দিকে নজর দিচ্ছেন।

ফলে সোনার বাজারে এখন শুধু মোট চাহিদার পরিমাণ নয়, ক্রেতারা কোন উদ্দেশ্যে এবং কী ধরনের সোনা কিনছেন—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উচ্চমূল্যের বাজারে এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে সোনার গহনা ও বিনিয়োগ—দুই খাতের বাজার কাঠামোকেই প্রভাবিত করতে পারে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD