Logo

যে কোনো মুহূর্তে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা হতে পারে: মুখ্য সচিব

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১৭:২৯
যে কোনো মুহূর্তে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা হতে পারে: মুখ্য সচিব
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল ঘোষণার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেছেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে এবং এটি যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

নতুন পে-স্কেল কবে ঘোষণা হতে পারে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মুখ্য সচিব বলেন, পে-স্কেল বর্তমানে সরকারের বিবেচনায় রয়েছে এবং এটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকারের এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি রয়েছে এবং তা বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, যেকোনো মুহূর্তে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ এবং মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না, জানতে চাইলে মুখ্য সচিব বলেন, বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিন ধরে নতুন বেতন কাঠামোর বাইরে থাকার বিষয়টিও বিবেচনা করতে হচ্ছে।

তার ভাষ্য, সাধারণত পাঁচ থেকে ছয় বছর পরপর পে-স্কেল হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে নতুন পে-স্কেল হয়নি। ফলে প্রায় ১৮ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছেন।

তিনি বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয় করা প্রয়োজন। নতুন বেতন কাঠামোর কারণে জনগণের ওপর কিছুটা চাপ তৈরি হতে পারে, তবে দীর্ঘদিন পর বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

বিজ্ঞাপন

সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্য সচিব বলেন, বাজারে কিছু সমস্যা রয়েছে এবং সরকার তা সমাধানের চেষ্টা করছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম প্রসঙ্গে এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় সরকার একটি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের নানা সমস্যার কারণে দেশের প্রায় সব খাতেই প্রতিকূলতা ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

মুখ্য সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করছেন এবং এ জন্য ব্যাপক পরিশ্রম করছেন। সরকারের কয়েকটি অগ্রাধিকার প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

এর মধ্যে রয়েছে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও হেলথ কার্ড চালু করা, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সম্মাননা, খাল খনন এবং কৃষকদের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ঋণ ও সুদ মওকুফের উদ্যোগ।

তার মতে, সরকারের ছয় মাসের সময়কে কার্যক্রমের পূর্ণ মূল্যায়নের জন্য যথেষ্ট সময় হিসেবে দেখা উচিত নয়। সরকার এখন আরও বড় পরিসরে কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কথা উল্লেখ করেন মুখ্য সচিব।

তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করে তিনি জানান, সরকার জ্বালানির বিকল্প ও বহুমুখী সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা করছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও সরবরাহজনিত সমস্যার কারণে সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

সরকারের ছয় মাসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল—এমন প্রশ্নে মুখ্য সচিব সরাসরি অর্থনীতির কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে নানা অনিয়ম এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগের কারণে অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। ব্যবসা খাতকে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

তার মতে, দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে সময় লাগবে। অর্থনীতির পাশাপাশি সরকারের সামনে আরও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পে-স্কেল বাস্তবায়নের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মুখ্য সচিব কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমে সক্রিয়তা বৃদ্ধি এবং যেসব খাত বেশি চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে, সেগুলো ধাপে ধাপে মোকাবিলা করা হবে।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিবের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নেরও মুখোমুখি হন মুখ্য সচিব।

এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য না করে সাংবাদিকদের অপেক্ষা করতে বলেন। দুই সচিবের মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য নেই এবং অপেক্ষা করলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিষয়টি জানা যেতে পারে।

সরকারের ছয় মাসের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে মন্ত্রীদের পারফরম্যান্সে তিনি সন্তুষ্ট কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মুখ্য সচিব বলেন, তিনি সন্তুষ্ট।

নতুন পে-স্কেল ঘোষণার বিষয়ে মুখ্য সচিবের বক্তব্যের পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। এখন সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং নতুন বেতন কাঠামোর বিস্তারিত প্রস্তাবের দিকেই নজর থাকছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD