নবম বেতনকাঠামো নিয়ে সুখবর দিলেন অর্থমন্ত্রী

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, নতুন বেতনকাঠামো প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এটি চূড়ান্ত হলে দ্রুত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন মিললেই প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারির কার্যক্রম শুরু হবে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কমিশনের কাজ চলমান রয়েছে এবং এটি বাস্তবায়নে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগোচ্ছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কমিটির সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে অর্থমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে রাজস্ব আদায় বাড়ানো, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি এবং নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সঙ্গে আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক নেই। বেতনকাঠামোর কাজ এগোচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন হবে এবং প্রজ্ঞাপন জারি করতেও খুব বেশি সময় লাগবে না।
একই সঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে বারবার মন্তব্য করতে তিনি আগ্রহী নন। কারণ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন ভিন্নভাবে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
অর্থ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে আইএমএফ কোনো আপত্তি জানায়নি। সংস্থাটি কেবল জানতে চেয়েছে, এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ কোথা থেকে আসবে এবং রাজস্ব আহরণ কীভাবে বাড়ানো হবে।
তাদের মতে, সরকারি আয় বৃদ্ধি নিশ্চিত করা গেলে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে আর্থিক চাপ অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।
নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সুপারিশে সর্বনিম্ন মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়।
নতুন বেতনকাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমদিকে নতুন বেতনকাঠামো তিন অর্থবছরে বাস্তবায়নের প্রস্তাব থাকলেও পরে তা দুই অর্থবছরে সম্পন্ন করার সুপারিশ করা হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ আলোচনায় কমিটির সদস্যরা চলতি অর্থবছরে নতুন মূল বেতন কার্যকর এবং পরবর্তী অর্থবছরে বিভিন্ন ভাতা বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
চলতি অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতনকাঠামোর আওতায় রয়েছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করা হবে।
২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রশাসন খাতে মোট বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত বরাদ্দের একটি বড় অংশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের নতুন বেতন ও ভাতা বাস্তবায়নের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মন্ত্রিসভার অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার পরই নবম বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় থাকা লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রত্যাশা শিগগিরই পূরণ হতে পারে।








