Logo

গেজেট ও সফটওয়্যার জটিলতা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় নতুন পে-স্কেল

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ জুলাই, ২০২৬, ১২:১১
গেজেট ও সফটওয়্যার জটিলতা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় নতুন পে-স্কেল
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঘোষিত নতুন বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও এখনো এ-সংক্রান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়নি। ফলে নতুন বেতনের হার, ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি, বিভিন্ন ভাতা কার্যকরের সময় এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাপ্য সুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

বিজ্ঞাপন

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। তবে ঘোষণার পরও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবী ও অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করে গেজেট প্রকাশ করা। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শেষ সপ্তাহের মধ্যে গেজেট জারি হতে পারে। তবে বেতন কাঠামোর কার্যকারিতা ১ জুলাই থেকেই গণনা করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সময় অধিকাংশ হিসাব-নিকাশ হাতে করা হলেও বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং জিপিএফের মতো আর্থিক কার্যক্রম ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ও আইবাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে ধাপে ধাপে মূল বেতন কার্যকর করতে গেলে বিদ্যমান সফটওয়্যারে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেকের মতে, বর্তমান ডিজিটাল ব্যবস্থায় আগের মতো হাতে বেতন নির্ধারণের সুযোগ নেই। যদি একাধিক ধাপে মূল বেতন কার্যকর করা হয়, তাহলে একই কর্মচারীর জন্য বারবার পে-ফিক্সেশন করতে হবে। এতে সফটওয়্যার সংশোধনের পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা এবং হিসাবগত ভুলের ঝুঁকিও বাড়বে। একই সঙ্গে পদোন্নতি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড এবং অবসর-সুবিধা নির্ধারণেও জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন অবসরের কাছাকাছি থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কারণ পেনশন, গ্র্যাচুইটি, অর্জিত ছুটির নগদায়নসহ অধিকাংশ আর্থিক সুবিধা শেষ প্রাপ্ত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়। ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থায় দুই বা তিন ধাপে এসব সুবিধা সমন্বয় করা কঠিন হওয়ায় ভবিষ্যৎ প্রাপ্যতা নিয়ে তারা শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

বিজ্ঞাপন

এই পরিস্থিতিতে আব্দুল মালেক প্রস্তাব দিয়েছেন, প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা হোক। এরপর বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। তাঁর মতে, এতে সফটওয়্যারে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন কমবে এবং অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রেও বৈষম্যের আশঙ্কা থাকবে না।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উচ্চপর্যায়ের একটি সচিব কমিটি নতুন পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব, সফটওয়্যার-সামঞ্জস্য এবং প্রশাসনিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরও জানিয়েছেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি সময়োপযোগী উদ্যোগ হলেও এর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যস্ফীতির ওপর পড়তে পারে। তাই বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়েও সরকারকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD