Logo

এক সিদ্ধান্তেই দেশের কোটি টাকা বাঁচালেন প্রধানমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৪
এক সিদ্ধান্তেই দেশের কোটি টাকা বাঁচালেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ফাইল ছবি

ব্যয় সংকোচনের নীতির অংশ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজের আয়োজন বাতিল করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সিদ্ধান্তে সরকারের প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আপ্যায়ন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর জাতীয় বাজেট পাসের দিন রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নৈশভোজের আয়োজন করা হতো। এতে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নিতেন। তবে এবার সরকারি ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে সেই আয়োজন থেকে বিরত থাকা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, বিগত ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন খাতে বছরে ৩০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা ব্যয় হতো। এর বাইরে বিভিন্ন সময়ে আরও ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের তথ্যও পাওয়া গেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শুধু এই খাতেই ব্যয় হয়েছিল ৩০ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩৫ টাকা।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, সে সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য খাবার সরবরাহ করত বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন। ওই সময়ের বিপুল অঙ্কের বকেয়া বিল এখনও পরিশোধ বাকি রয়েছে এবং বর্তমান সরকার ধাপে ধাপে সেই অর্থ পরিশোধ করছে।

অতিরিক্ত প্রেস সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তারেক রহমান আপ্যায়ন ব্যয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছেন। এর ফলে চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন বাবদ ব্যয় হয়েছে মাত্র ১১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। এছাড়া দুই ঈদ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে আপ্যায়ন খাতে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯০ লাখ টাকা।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের পুরো প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সক্রিয়ভাবে অংশ নেন বলেও জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সকাল পৌনে ১০টার দিকে জাতীয় সংসদে উপস্থিত হন এবং শুরু থেকে অধিবেশনকক্ষে অবস্থান করেন। তিনি বাজেটের বিভিন্ন মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোটগ্রহণ, আইন প্রণয়ন কার্যক্রম এবং অন্যান্য সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নেন।

তিনি আরও জানান, অধিবেশনের বিরতির সময়ও প্রধানমন্ত্রী দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যান এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিতে স্বাক্ষর করেন।

উল্লেখ্য, গত ১১ জুন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। পরে বিভিন্ন মঞ্জুরি দাবি নিষ্পত্তির পর সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে বাজেটটি পাস হয়।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: বাসস

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD