Logo

বেকারি পণ্যের দাম বাড়ল ২০ শতাংশ, বাড়ছে ভোক্তার খরচ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৪:২৫
বেকারি পণ্যের দাম বাড়ল ২০ শতাংশ, বাড়ছে ভোক্তার খরচ
ছবি: সংগৃহীত

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামের সঙ্গে মানুষের আয় না বাড়ার চাপও রয়েছে। এর মধ্যেই পাউরুটি, বিস্কুট, চানাচুরসহ শুকনা বেকারি পণ্যের দাম সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। চিনি, ময়দা ও ভোজ্যতেলের মতো কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বিজ্ঞাপন

গতকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন দামে এসব বেকারি পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর ‘ব্রেড বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি’ নতুন মূল্য নির্ধারণের ঘোষণা দেয়। নতুন দর কার্যকরের প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা দুই দিন কারখানা বন্ধ রাখেন।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ১০০ টাকায় বিক্রি হওয়া দুই পাউন্ডের একটি পাউরুটির দাম বেড়ে ১২০ টাকা হয়েছে। একইভাবে ৫০ টাকার এক পাউন্ড পাউরুটির দাম এখন ৬০ টাকা। সাধারণ চায়ের দোকানে ১০ টাকায় বিক্রি হওয়া কিছু বেকারি পণ্যের দাম বাড়িয়ে ১৫ টাকা করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত কয়েক মাসে বেকারি শিল্পে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ময়দা, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো প্রধান কাঁচামালের দাম বাড়ার পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কাঁচামালের খরচের পাশাপাশি কারখানা পরিচালনার ব্যয়ও বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

ব্রেড বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন বলেন, রুটি, বিস্কুট, কেক, বাটার বনসহ সব ধরনের বেকারি পণ্যের দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিছু পণ্যের ওজন কমিয়ে দাম সমন্বয় করা হয়েছে, আবার কিছু পণ্যের দাম সরাসরি বাড়ানো হয়েছে। সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সমিতির সদস্যরা সম্মিলিতভাবে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক বেকারি স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছে না। আগে ভোরের আগেই যেসব কারখানায় পাউরুটি, কেক ও বিস্কুট তৈরির কাজ শুরু হতো, এখন সেগুলোর অনেককে দিনের বড় একটি সময় উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে ছোট উদ্যোক্তারা বেশি সমস্যায় পড়ছেন।

বিজ্ঞাপন

তবে ব্যবসায়ীদের যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভোক্তারা। তাদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা তুলনামূলক কম দামের পণ্যগুলোর দাম একসঙ্গে এতটা বাড়ানোয় পরিবারের ব্যয় আরও বাড়বে। তাদের অভিযোগ, আয় বা বেতন না বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দামই ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এর মধ্যে পাউরুটি, বিস্কুটসহ অন্যান্য বেকারি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নতুন চাপ তৈরি করেছে।

নতুন দাম কার্যকর হওয়ার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার দোকানি ও চা-দোকানিরা জানিয়েছেন, দাম বাড়ার পর বেকারি পণ্যের বিক্রি কমেছে। আগে যেসব পণ্য দুপুরের মধ্যেই শেষ হয়ে যেত, সেগুলোর কিছু এখন দিনের শেষেও অবিক্রীত থাকছে। অনেক ক্রেতা আগের তুলনায় কম পরিমাণে কিনছেন, আবার কেউ বাড়তি দাম শুনে পণ্য না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।

তবে সব বেকারি সমিতির নির্ধারিত নতুন দাম অনুসরণ করছে না। রাজধানীর মানিকনগরের ভাণ্ডারি বেকারির স্বত্বাধিকারী মো. আকাইদ হোসেন বলেন, তারা সমিতির নতুন মূল্য অনুসরণ করছেন না। উৎপাদন খরচ ও পণ্যের মান বিবেচনায় নিজেদের মতো করে আগেই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজারের প্যাকেটজাত বিস্কুট, কেক ও রুটির তুলনায় তাদের পণ্যের মান উন্নত হওয়ায় সে অনুযায়ী দাম রাখা হয়। তাই সমিতির নতুন ঘোষণার পর তারা আর দাম বাড়াননি।

বিজ্ঞাপন

মুগদা বাজারের এক বেকারি ব্যবসায়ীও জানান, তারাও সমিতির বর্ধিত মূল্য অনুসরণ করছেন না। তাদের প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের কেক, বিস্কুট, পাউরুটি ও বাটার বন তৈরি হয়। উৎপাদন খরচ বিবেচনায় গত জুনেই পণ্যের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। তাই সমিতির নতুন সিদ্ধান্তের কারণে তারা আবার দাম বাড়াবেন না।

এ কারণে একই ধরনের বেকারি পণ্যের দাম এলাকাভেদে ভিন্ন দেখা যাচ্ছে। কোথাও সমিতির নির্ধারিত নতুন দাম কার্যকর হয়েছে, আবার কোথাও আগের দামেই পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এতে ক্রেতাদের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা উৎপাদন ব্যয় সামাল দিতে দাম বাড়ানোর কথা বললেও এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভোক্তার ওপর। বিশেষ করে ১০০ টাকার পাউরুটি ১২০ টাকা এবং ১০ টাকার কিছু বেকারি পণ্য ১৫ টাকা হওয়ায় সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর নিয়মিত খাদ্য ব্যয় আরও বাড়বে। নিত্যপণ্যের বাজারে চলমান মূল্যচাপের মধ্যে বেকারি পণ্যের এই নতুন দাম তাই ভোক্তার জন্য বাড়তি ব্যয়ের আরেকটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD