Logo

আকাশছোঁয়া বাজারদরে পকেট ফাঁকা ক্রেতার, মিলছে না সংসারের খরচ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৪
আকাশছোঁয়া বাজারদরে পকেট ফাঁকা ক্রেতার, মিলছে না সংসারের খরচ
ছবি: সংগৃহীত

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বাজারে কমেছে সবজির সরবরাহ। এর প্রভাব পড়েছে দামে। সবজির পাশাপাশি মাছ, ডিম ও মুরগির দামও রয়েছে বাড়তি। এর সঙ্গে সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট নতুন করে ভোগান্তি বাড়িয়েছে। ফলে মাসিক আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মালিবাগ, শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

মালিবাগ বাজারে প্রতি কেজি পটল ৮০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা, ঝিঙা, ধন্দুল ও চিচিঙ্গা ৮০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে ৩০ টাকা কেজি। গোল বেগুন ১৪০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া করলা ও শসা ৮০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, কচু ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা এবং ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং প্রতি হালি কাঁচা কলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।

বিজ্ঞাপন

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী নাজিম মাহমুদ বলেন, আজ বাজার করতে এসে দেখছি সবজিগুলোর দাম বাড়তি যাচ্ছে। বলতে গেলে সব সবজির দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহে তুলনামূলক কম ছিল, আজ দেখছি বাড়তি দাম।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সবজি বিক্রেতা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, কয়েকদিন বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ কিছুটা কমেছে। আজ পাইকারি সবজি কিনতে গিয়ে দেখি, পাল্লা প্রতি সব সবজির দাম বেড়েছে। আজকের বাজারে সবচেয়ে বেশি দাম যাচ্ছে বেগুনের, যার প্রতি কেজি ১৪০ টাকা। এ ছাড়া, পেঁপের দাম সবচেয়ে কম, যার প্রতি কেজি ৩০ টাকা। বৃষ্টি থেমে গেলে আবার সবজির দাম কমে আসবে।

সবজির বাইরে ডিম ও মুরগির বাজারও স্বস্তি দিচ্ছে না। শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজারে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির কেজি পড়ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা।

বিক্রেতাদের ভাষ্য, অতিবৃষ্টি ও গরমে বিভিন্ন খামারে ডিমপাড়া মুরগি ও ব্রয়লার মারা গেছে। পরবর্তী সময়ে অনেক খামারি নতুন করে মুরগি পালন শুরু করেননি। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক লোডশেডিং পরিস্থিতিও খামারে উৎপাদন কমার অন্যতম কারণ বলে দাবি করছেন তারা। ফলে বাজারে ডিম ও মুরগির দাম বাড়তি রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মাছের বাজারেও একই ধরনের চাপ দেখা গেছে। তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা এবং রুই-কাতলা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা এবং পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি।

শেওড়াপাড়া বাজারের ক্রেতা শরিফুদ্দিন বলেন, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ আমিষের চাহিদা মেটায় ডিম ও মুরগির মাধ্যমে। এই দুই পণ্যের দাম বাড়তি। তার ওপর এখন তেল ও আট-ময়দার দামও বেড়েছে। চাল, ডালসহ অন্যান্য খরচও বেড়েছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এদিকে সয়াবিন তেলের দাম বাড়লেও রাজধানীর বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বিভিন্ন মুদি দোকানে পর্যাপ্ত বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। চাহিদা অনুযায়ী কোম্পানিগুলো তেল সরবরাহ করছে না বলেও অভিযোগ তাদের।

১১ নম্বর কাঁচাবাজারের মুদি দোকানি তামিম বলেন, অর্ডার দিলেও তেল দেয় না কোম্পানি। দোকানে কোনো সয়াবিন তেল নেই। তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেক ক্রেতা।

বিজ্ঞাপন

আরেক বিক্রেতা বলেন, পর্যাপ্ত তেল তো দিচ্ছেই না, আবার লাভ দিচ্ছে একদম সীমিত। ১ লিটার তেল ১৯৮ টাকা কেনা, বিক্রি করতে হচ্ছে ১৯৯ টাকায়। এ অবস্থায় অনেকেই তেল বিক্রি করতে চাচ্ছেন না।

সব মিলিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের একাধিক খাতে বাড়তি দামের চাপ তৈরি হওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ। বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি মাছ, ডিম-মুরগি ও তেলের বাজারেও অস্বস্তি থাকায় পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে উঠছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD