Logo

বাংলা কিউআরে দৈনিক লেনদেন ছাড়াল ১২০ কোটি টাকা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৪:৩০
বাংলা কিউআরে দৈনিক লেনদেন ছাড়াল ১২০ কোটি টাকা
ছবি: সংগৃহীত

দেশে অভিন্ন ‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থা চালুর পর বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বর্তমানে এই কিউআর ব্যবস্থায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। সপ্তাহের হিসাবে এর পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে ৭০০ কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন

শুধু লেনদেনের অর্থমূল্য নয়, বাংলা কিউআরের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া লেনদেনের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। জুলাইয়ের শুরুতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার লেনদেন হলেও আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজারে। একই সময়ে দৈনিক লেনদেনের অর্থমূল্য প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে দেশে বাধ্যতামূলকভাবে ‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর ধাপে ধাপে সারাদেশে বাংলা কিউআরের ব্যবহার বিস্তৃত হতে থাকে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগের ফলে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান নিজেদের আলাদা কিউআর কোডের পরিবর্তে বাংলা কিউআরের আওতায় এসেছে। এতে বড় শপিংমল থেকে শুরু করে ছোট দোকান ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরাও একই কিউআর কোডে বিভিন্ন সেবা থেকে অর্থ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, জুলাইয়ের শুরুতে বাংলা কিউআরে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার। এসব লেনদেনের মোট অর্থমূল্য ছিল প্রায় ৩৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

বিজ্ঞাপন

আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে দৈনিক লেনদেনের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজারে পৌঁছায়। এ সময় প্রতিদিন গড়ে লেনদেনের অর্থমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

ব্যবসায়ীদের মধ্যেও বাংলা কিউআর ব্যবহারের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। ২১ জুলাই পর্যন্ত যেখানে প্রায় ১৬ লাখ ব্যবসায়ী এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, পরে সেই সংখ্যা বেড়ে ৩০ লাখের বেশি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, বর্তমানে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ ৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, লেনদেনের এই গতি অব্যাহত থাকুক।’

তবে বাংলা কিউআরের ব্যবহার আরও বাড়াতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ দূর করার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আরিফ হোসেন খান জানান, মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর নিয়ে ছোট ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা দ্বিধা রয়েছে।

তার ভাষ্য, কোনো ব্যবসায়ী ১০০ টাকার পণ্য বিক্রি করে ৯৯ টাকা পেলে স্বাভাবিকভাবেই তার মনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে—কেন এক টাকা কম নিতে হবে। তবে ডিজিটাল ও নগদবিহীন লেনদেনের প্রসার ঘটলে ব্যবসার পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি মনে করেন, অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ হলে ক্রেতারা আরও বেশি কেনাকাটায় আগ্রহী হতে পারেন। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের জন্য ভর্তুকির বিষয়টিও বিবেচনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে উদ্যোগের ঘোষণা আসার পর বাংলা কিউআরে লেনদেনের গতি আরও বেড়েছে বলেও জানান তিনি।

একটি কিউআর কোড ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস হিসাব থেকে অর্থ পরিশোধ করা যাওয়ায় গ্রাহকদের ভোগান্তিও কমেছে।

রাজধানীর নিউমার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা আজিমপুরের বাসিন্দা তুহিন ইসলাম বলেন, আগে নগদ, বিকাশ বা রকেটের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে দোকানে কোন প্রতিষ্ঠানের কিউআর কোড রয়েছে, তা দেখে নিতে হতো।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, তিনি বিকাশ ব্যবহার করেন না। ফলে যেসব দোকানে শুধু বিকাশের কিউআর ছিল, সেখানে গিয়ে অর্থ পরিশোধ করতে সমস্যায় পড়তে হতো। এখন একটি কিউআর কোড স্ক্যান করেই নিজের যেকোনো হিসাব থেকে টাকা দেওয়া যাচ্ছে। ফলে বড় ধরনের ঝামেলা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

ঢাকায় পাইকারি কাপড় কিনতে আসা মাহিন হোসেন জানান, গ্রাম থেকে রাজধানীতে পাইকারি পণ্য কিনতে এলে আগে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা সঙ্গে রাখতে হতো, যা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি বলেন, এখন একটি কিউআর কোড স্ক্যান করেই অনলাইনে অর্থ পরিশোধ করা যাচ্ছে। ফলে বড় অঙ্কের নগদ টাকা সঙ্গে নিয়ে চলাচলের প্রয়োজন হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

মতিঝিলের ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবসায়ী রায়হানুল ইসলাম বলেন, তার দোকানে তুলনামূলক বেশি দামের পণ্য বিক্রি হয়। এসব পণ্যের মূল্য নগদে গ্রহণ করতে অনেক সময় নানা ধরনের ঝামেলা হয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘এখন কোড স্ক্যান করে সহজেই টাকা নিতে পারি।’

আজিমপুরের ফলের জুস বিক্রেতা আলতাফ হোসেনেরও একই ধরনের অভিজ্ঞতা। তার দোকানে সারাদিন ক্রেতাদের ভিড় থাকে। অনেকের কাছে খুচরা টাকা না থাকায় আগে প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হতো। বাংলা কিউআরে অর্থ পরিশোধের সুযোগ থাকায় এখন সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে।

ডিজিটাল পেমেন্টকে সহজ ও সবার জন্য ব্যবহারযোগ্য করার পাশাপাশি নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমানো এবং ক্রেতা-বিক্রেতার অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ করাই বাংলা কিউআর ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য। সাম্প্রতিক সময়ে লেনদেনের যে দ্রুত প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, তাতে অভিন্ন এই কিউআর ব্যবস্থা দেশের দৈনন্দিন কেনাবেচায় ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD