Logo

ঋণমানের পূর্বাভাসে উন্নতি, ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২১:০৬
ঋণমানের পূর্বাভাসে উন্নতি, ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি
ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ সামলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা মুডি’স রেটিংস। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উন্নতি ও রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহের কারণে বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেগেটিভ’ থেকে ‘স্থিতিশীল’ করেছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সর্বশেষ মূল্যায়নে নিউইয়র্কভিত্তিক মুডি’স বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ‘ইস্যুয়ার’ ও ‘সিনিয়র আনসিকিউরড’ রেটিং ‘বি২’ এবং স্বল্পমেয়াদি ইস্যুয়ার রেটিং ‘নট প্রাইম’ অপরিবর্তিত রেখেছে।

মুডি’স জানিয়েছে, যেসব ঝুঁকির কারণে এর আগে বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস নেতিবাচক করা হয়েছিল, ‘বি২’ রেটিংয়ের ক্ষেত্রে সেসব ঝুঁকি এখন অনেকটাই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তরণ এবং নতুন সরকারের পক্ষে শক্তিশালী গণরায় রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সংস্কার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি কমিয়েছে। পাশাপাশি নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থা ও রেকর্ড রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক অর্থনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করেছে। এর ফলে বাড়তি জ্বালানি আমদানির ব্যয় সামাল দেওয়াও সহজ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সরকারের ধারাবাহিক যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততাকে অর্থায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখেছে মুডি’স।

বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

মুডি’সের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে তা বেড়ে প্রায় ৩২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই রিজার্ভ দিয়ে চার মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞাপন

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও উন্নতির পূর্বাভাস দিয়েছে মুডি’স। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

তবে মূল্যস্ফীতি কমতে শুরু করার আগে তা প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

ব্যাংকিং খাতে বড় দুর্বলতা

বিজ্ঞাপন

সার্বিক ঋণমানের পূর্বাভাসে উন্নতি হলেও বাংলাদেশের সংকুচিত রাজস্বভিত্তি ও দুর্বল ব্যাংকিং খাতকে বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে মুডি’স।

সংস্থাটি বলেছে, সাম্প্রতিক সংস্কারের ফলে দেশের ব্যাংকিং খাতে প্রায় ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ খেলাপি ঋণের চিত্র উঠে এসেছে। ব্যাংকগুলোর মূলধন পুনর্গঠনে জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ অর্থ প্রয়োজন হতে পারে। এতে সরকারের বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে আমানত বাড়তে থাকায় ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের তারল্য সংকট নেই। বরং ব্যাংকগুলোর প্রধান সমস্যা হলো সচ্ছলতা ও পর্যাপ্ত মূলধনের ঘাটতি।

বিজ্ঞাপন

রাজস্ব আদায়েও চাপ

মুডি’স জানিয়েছে, সরকারের সংগৃহীত রাজস্বের প্রায় ৩০ শতাংশ ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। দেশের মোট ঋণ জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশের মধ্যে থাকায় তা এখনো সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তবে রাজস্ব আদায়ের সংকীর্ণ ভিত্তির কারণে সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনায় নমনীয়তা কমে গেছে।

সংস্থাটির মতে, সহজ শর্তে আন্তর্জাতিক ঋণের সুবিধা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পুনঃঅর্থায়ন-সংক্রান্ত ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD