Logo

সর্বজনীন পেনশনে যুক্ত হচ্ছে ঋণ-স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫০
সর্বজনীন পেনশনে যুক্ত হচ্ছে ঋণ-স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা
ছবি: সংগৃহীত

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে নতুন কয়েকটি সুবিধা যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে পেনশনারের মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়া, স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনা, বিশেষ প্রয়োজনে ঋণ নেওয়ার সুযোগ এবং নির্দিষ্ট শর্তে পেনশন ব্যবস্থা থেকে বের হওয়ার সুবিধা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের সভা হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হতে পারে। পদাধিকারবলে অর্থমন্ত্রী জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান জানিয়েছেন, মানুষের আগ্রহ বাড়াতে বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন করা হবে। পর্ষদ অনুমোদন দিলে এবং বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন সম্পন্ন হলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন সুবিধাগুলো চালু করা সম্ভব হতে পারে।

বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর তুলনায় নির্ভরশীল মানুষের হার বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০২৩ সালের আগস্টে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করে সরকার। তবে প্রায় তিন বছর পরও এতে প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংকের আমানতের সুদের তুলনায় পেনশন ব্যবস্থায় রিটার্ন কম হওয়া এবং অংশগ্রহণকারীদের তাৎক্ষণিক সুবিধা সীমিত থাকায় আগ্রহ কমেছে। বর্তমানে চারটি স্কিমে মোট ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন নিবন্ধিত হয়েছেন। এসব হিসাব থেকে জমা হয়েছে ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

বিজ্ঞাপন

দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষের জন্য চালু করা ‘সমতা’ স্কিমে সবচেয়ে বেশি ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন নিবন্ধিত হয়েছেন। এ স্কিমে জমা হয়েছে ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে প্রবাসীদের জন্য চালু করা ‘প্রবাস’ স্কিমে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সবচেয়ে কম। এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১৭১ জন প্রবাসী এতে নিবন্ধিত হয়েছেন, যার মধ্যে নারী ৯৭ জন। এই স্কিমে জমা হয়েছে ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

স্বামী বা স্ত্রী পাবেন আজীবন পেনশন

বর্তমান নিয়মে ৬০ বছর বয়সে পেনশন পাওয়া শুরু হয়। পেনশন চলাকালে গ্রাহকের মৃত্যু হলে নমিনি তার ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত একই হারে মাসিক পেনশন পান।

বিজ্ঞাপন

নতুন প্রস্তাবে নমিনির পরিবর্তে পেনশনারের স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবীদের প্রচলিত পেনশন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার বিষয়টিও পর্ষদের সভায় আলোচনায় আসতে পারে।

বিশেষ প্রয়োজনে নেওয়া যাবে ঋণ

বিজ্ঞাপন

সর্বজনীন পেনশন আইনে গ্রাহকের জমা অর্থের একটি অংশ বিশেষ প্রয়োজনে ঋণ হিসেবে নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এতদিন এ সুবিধা বাস্তবায়ন করা হয়নি। এবার তা চালুর পরিকল্পনা করছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।

প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট প্রয়োজনের ক্ষেত্রে গ্রাহক তার জমা অর্থের একটি অংশ ঋণ হিসেবে নিতে পারবেন। ঋণের বিপরীতে প্রাপ্ত সুদও সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের পেনশন হিসাবে জমা হওয়ার কথা রয়েছে।

অক্ষমতায় পুরো অর্থ তোলার সুযোগ

বিজ্ঞাপন

পেনশন ব্যবস্থায় অন্তত পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর কোনো গ্রাহক শারীরিক ও আর্থিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে বিশেষ বিবেচনায় ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে পুরো জমা অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দীর্ঘমেয়াদি এই ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আর্থিক অনিশ্চয়তা কমাতে এ সুবিধা ভূমিকা রাখতে পারে।

মাসে ১০ থেকে ২০ টাকায় স্বাস্থ্যবিমা

পেনশনারদের স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একটি খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, গ্রাহকদের কাছ থেকে মাসে ১০ থেকে ২০ টাকা প্রিমিয়াম নেওয়া হতে পারে। এর বিনিময়ে পেনশনারদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শরিয়াহভিত্তিক স্কিমের উদ্যোগ

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও গ্রহণযোগ্য করতে শরিয়াহভিত্তিক একটি পেনশন স্কিম চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পর্ষদের সভায় প্রস্তাবগুলো অনুমোদিত হলে বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নতুন সুবিধাগুলো চালু হলে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ বাড়বে বলে আশা করছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD