Logo

২০৩০ সালের মধ্যে ৬৮৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্য বিপিডিবি’র

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪২
২০৩০ সালের মধ্যে ৬৮৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্য বিপিডিবি’র
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব অর্থায়নে ২০৩০ সালের মধ্যে সারাদেশে বিভিন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। এসব প্রকল্পের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ৬৮৯ মেগাওয়াট করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিপিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, গ্রিড-সংযুক্ত সৌর প্যানেল স্থাপনের জন্য প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) তৈরি, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমিও নির্বাচন করা হয়েছে।

এরই মধ্যে রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বিপিডিবি। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি) ফেনীর সোনাগাজীতে ২২২ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌর ফটোভোলটাইক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করেছে। ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ চলছে।

বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮৮ কিলোওয়াট-পিক ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪ হাজার ১৯৫ কিলোওয়াট-পিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিপিডিবির মালিকানাধীন ভবন ও জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের জন্য দুই বছর আগে ১৭টি প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল।

ইতোমধ্যে কাপ্তাইয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং একাডেমিতে ১৭০ কিলোওয়াট-পিকের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে উৎপাদনে রয়েছে। চট্টগ্রাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১৩০ কিলোওয়াট-পিকের একটি ব্যবস্থা চলতি বছরের জুনে এবং রাজশাহী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১২০ কিলোওয়াট-পিকের ব্যবস্থা ৫ সেপ্টেম্বর চালু হয়েছে।

এ ছাড়া ১২ সেপ্টেম্বর খুলনা পাওয়ার প্ল্যান্টে ২৬৮ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪ হাজার ১৯৫ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালুর কাজ এগিয়ে চলছে। পরিকল্পনার আওতায় সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনে ৩০০ কিলোওয়াট-পিক, কাটাখালীতে ৭৩ কিলোওয়াট-পিক, বাঘাবাড়ী পাওয়ার স্টেশনে ৬৫ কিলোওয়াট-পিক এবং ভোলা ২২৫ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্টে ১৯০ কিলোওয়াট-পিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের কথা রয়েছে।

এ ছাড়া কক্সবাজার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ২৩০ কিলোওয়াট-পিক, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৩৩২ কিলোওয়াট-পিক, ঘোড়াশাল পাওয়ার স্টেশনের ভবনগুলোতে ১ হাজার ৩০০ কিলোওয়াট-পিক, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৮৭ কিলোওয়াট-পিক এবং চট্টগ্রাম পাওয়ার স্টেশনে ৩৯০ কিলোওয়াট-পিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পরিকল্পনার আরও অংশ হিসেবে দোহাজারী-কালীআইশ ১০০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্টে ১২২ কিলোওয়াট-পিক, শিকলবাহা পাওয়ার প্ল্যান্টে ৭৫০ কিলোওয়াট-পিক, হাটহাজারী ১০০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্টে ৮৬ কিলোওয়াট-পিক এবং ঘোড়াশাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১৭০ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে।

বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, বোর্ডের মালিকানাধীন অব্যবহৃত ছাদ ও জমিতে নিজস্ব অর্থায়নে এসব সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের জলবায়ু সংক্রান্ত অঙ্গীকার পূরণে সহায়তা মিলবে। একই সঙ্গে পরিবেশের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি ব্যক্তিপর্যায়ে বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনে মানুষকে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে।

সূত্র: বাসস

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD