২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেবে বিসিক, পাবেন যেসব উদ্যোক্তারা

ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) থেকে ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের সুযোগ রয়েছে। দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে কোনো জামানত দিতে হয় না। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সুদের হার ৫ শতাংশ এবং পুরুষ উদ্যোক্তাদের জন্য ৬ শতাংশ নির্ধারিত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এই ঋণ নিতে উদ্যোক্তাদের কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যেতে হয় না। দেশের ৬৪ জেলার বিসিক কার্যালয়ে সরাসরি আবেদন করে ঋণের জন্য প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।
বিসিকের তিন ঋণ কর্মসূচি
বর্তমানে বিসিকের তিন ধরনের ঋণ কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঋণ কর্মসূচি। করোনার পর ২০২০-২১ অর্থবছরে ১০০ কোটি টাকা নিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে এটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিলে রূপ নেয়। গত জুন পর্যন্ত এ তহবিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭০ কোটি টাকা। এ কর্মসূচি থেকে ৯ হাজার ২৯১ জন উদ্যোক্তা ঋণ পেয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিসিক নিজস্ব অর্থায়নে ‘বিনীত’ বা বিসিক নিজস্ব তহবিল ঋণ কর্মসূচি চালু করে। ১৫ কোটি টাকা দিয়ে শুরু হওয়া এই তহবিলের আকার বর্তমানে ১৫০ কোটি টাকা। গত জুন পর্যন্ত এ কর্মসূচির আওতায় ঋণ পেয়েছেন ৮ হাজার ৮৭৩ জন।
এ ছাড়া প্রান্তিক পর্যায়ের মৌচাষিদের জন্য ২০১৯ সাল থেকে আলাদা ঋণ কর্মসূচি রয়েছে। এ তহবিলের বর্তমান আকার ৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এর আওতায় মৌচাষিরা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারেন। এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৯৭ জন মৌচাষিকে এ ঋণ দেওয়া হয়েছে।
বিসিক কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি কর্মসূচির ঋণের সুদের হার ও অন্যান্য প্রক্রিয়া একই।
বিজ্ঞাপন
কত টাকা পর্যন্ত ঋণ, অনুমোদন কোথা থেকে
বিসিকের মাধ্যমে বর্তমানে ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যায়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী অনুমোদনের ক্ষমতা জেলা, আঞ্চলিক ও প্রধান কার্যালয়ের মধ্যে ভাগ করা হয়েছে। জেলা বিসিক কার্যালয় সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ অনুমোদন করতে পারে। ৫ লাখের বেশি থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের অনুমোদন দেয় আঞ্চলিক কার্যালয়। আর ১০ লাখের বেশি থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের অনুমোদন দেয় বিসিকের প্রধান কার্যালয়।
বিজ্ঞাপন
জামানত লাগবে কি
দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে কোনো জামানত প্রয়োজন হয় না। শুধু একজন গ্যারান্টার থাকলেই এ ঋণের জন্য আবেদন করা যায়।
তবে দুই লাখ টাকার বেশি ঋণের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তার নিজস্ব জমি বা বাড়ির কাগজপত্র ‘ইকুইটেবল মর্টগেজ ডিড’-এর মাধ্যমে বিসিক কার্যালয়ে বন্ধক রাখতে হয়। এ প্রক্রিয়া কোনো ব্যাংক বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নয়, বিসিক কার্যালয়েই সম্পন্ন করা যায়। ঋণ পরিশোধ হয়ে গেলে বন্ধক রাখা কাগজপত্র উদ্যোক্তাকে ফেরত দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
কারা অগ্রাধিকার পাবেন
জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২-এ অন্তর্ভুক্ত যেকোনো শিল্প খাতের প্রতিষ্ঠান এ ঋণের জন্য আবেদন করতে পারে। তবে নতুন উদ্যোক্তা, নারী উদ্যোক্তা, বিসিক শিল্পনগরীর শিল্প প্লটের মালিক ও উদ্যোক্তা এবং রপ্তানিমুখী খাতের উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
একক মালিকানা ও অংশীদারি—উভয় ধরনের ব্যবসার উদ্যোক্তারাই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেন।
বিজ্ঞাপন
সুদের হার ও পরিশোধের সময়
নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণের সুদের হার ৫ শতাংশ এবং পুরুষ উদ্যোক্তাদের জন্য ৬ শতাংশ। ঋণের মেয়াদ সর্বনিম্ন এক বছর থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত হতে পারে।
ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ উদ্যোক্তার ন্যূনতম ৩০ শতাংশ এবং নারী উদ্যোক্তার ন্যূনতম ২০ শতাংশ ইকুইটি নিশ্চিত করতে হয়। উদ্যোক্তার নিজস্ব জমি, কারখানা ভবন, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট স্থায়ী বিনিয়োগ ইকুইটি হিসেবে গণ্য হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য বিসিকের কার্যালয় থেকেই তুলনামূলক কম সুদে ব্যবসায়িক অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে।








