দেশের সব সেচ সেচব্যবস্থাকে সোলার পাম্পে রূপান্তর করা হবে

দেশের সব ডিপ ও শ্যালো সেচ পাম্প পর্যায়ক্রমে সৌরশক্তিতে চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ ও ডিজেলনির্ভর সেচব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে সোলার পাম্পে রূপান্তর করা হবে।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) যশোর সদর উপজেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের যৌথ আয়োজনে নদীয়ার মোড়, বর্মনপাড়া ও চাঁচড়া এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস ও কয়লা আমদানি করতে হয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বেড়েছে। আগে প্রতি ইউনিট গ্যাস ৮ থেকে ৯ ডলারে কেনা গেলেও বর্তমানে তা ২৮ ডলারে পৌঁছেছে। এর প্রভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এই পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, রোদ, বাতাস ও পানি কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
সেচ মৌসুমে ডিজেলের উচ্চমূল্য ও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে কৃষকদের সেচব্যয় বেড়ে যায় উল্লেখ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত সব সেচ পাম্প পর্যায়ক্রমে সোলার পাম্পে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি কিংবা ডিজেলের দাম বাড়লেও কৃষক তুলনামূলক কম খরচে জমিতে সেচ দিতে পারবেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, যশোর সদরের লেবুতলা ইউনিয়নে এরই মধ্যে সৌরশক্তিচালিত সেচ পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। একটি সোলার পাম্পের মাধ্যমে সেখানে ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রথম ধাপে বরেন্দ্র প্রকল্পসহ সারা দেশে প্রায় ৩৬ হাজার সেচ পাম্প চিহ্নিত করে সোলারে রূপান্তরের কাজ শুরু করা হচ্ছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি বাজেট অথবা বৈদেশিক সহায়তার মাধ্যমে অর্থের সংস্থান করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন। এ সময় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত অগ্রাধিকার কর্মসূচি এবং স্থানীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও এলাকার সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন।
তথ্য সূত্র: বাসস








