Logo

টিসিবির ঐচ্ছিক পণ্য কিনতে পারবেন সাধারণ ভোক্তারাও

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭:৪৬
টিসিবির ঐচ্ছিক পণ্য কিনতে পারবেন সাধারণ ভোক্তারাও
ছবি: সংগৃহীত

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশিকা আনছে। এতে ফ্যামিলি কার্ডধারীদের জন্য নির্ধারিত ভর্তুকির পণ্যের পাশাপাশি কিছু পণ্য ‘ঐচ্ছিক’ হিসেবে রাখা হচ্ছে। এসব পণ্য ফ্যামিলি কার্ড না থাকলেও সাধারণ ভোক্তারা নির্ধারিত সাশ্রয়ী দামে কিনতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত পরিবারগুলো প্রতি মাসে ভর্তুকি মূল্যে ২ লিটার ভোজ্যতেল, ২ কেজি মসুর ডাল ও ১ কেজি চিনি পাবেন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ থাকলে ৫ কেজি চালও দেওয়া হবে। রমজান মাসে এর সঙ্গে যুক্ত হবে ছোলা ও খেজুর।

সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্তে প্রয়োজন অনুযায়ী পেঁয়াজ, আলুসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও বিক্রির তালিকায় যুক্ত হতে পারে।

তবে ভর্তুকির ওপর চাপ কমাতে সুগন্ধি সাবান, গুঁড়ো সাবান, লন্ড্রি সাবান, লবণ, চা, আটা ও মসলাকে ‘ঐচ্ছিক পণ্য’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডধারীরা চাইলে এসব পণ্য কিনতে পারবেন, আবার না চাইলে কেনার বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

ডিলাররা কোনো কার্ডধারীকে ঐচ্ছিক পণ্য কিনতে বাধ্য করতে পারবেন না। একই সঙ্গে এসব পণ্য সাধারণ ক্রেতাদের কাছেও নির্ধারিত সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রি করতে পারবেন তারা। প্রয়োজন বিবেচনায় নতুন কোনো পণ্য এই তালিকায় যুক্ত করতে হলে সরকারের অনুমোদন নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তৈরি নতুন নির্দেশিকাটি শিগগির জারি হওয়ার কথা রয়েছে। এটি কার্যকর হলে আগে জারি করা টিসিবি-সংক্রান্ত সব পরিপত্র বাতিল হয়ে নতুন নির্দেশনার ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পণ্য বিক্রির পাশাপাশি উপকারভোগী নির্বাচন, ডিলারদের তদারকি ও বণ্টন ব্যবস্থায়ও আরও কঠোর নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে।

বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান বলেন, টিসিবির পণ্য বিতরণ কার্যক্রমকে আরও জনবান্ধব ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যেই নতুন নির্দেশিকা তৈরি করা হচ্ছে।

যেসব পরিবার টিসিবি কার্ডে অগ্রাধিকার পাবেন

বিজ্ঞাপন

নতুন নির্দেশিকায় প্রকৃত হতদরিদ্র, দিনমজুর, ভূমিহীন, কৃষি ও চা শ্রমিক, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এবং অসচ্ছল ও কর্মক্ষমতা হারানো ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা এবং প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে—এমন পরিবারও ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে।

তবে সরকারি অন্য কোনো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীরা টিসিবির এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না। একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী বা সন্তানসহ একাধিক সদস্যের নামে কার্ড দেওয়ার সুযোগও থাকবে না। কার্ড গ্রহণের সময় অঙ্গীকারনামা দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।

ডিজিটাল যাচাইয়ে গুরুত্ব

বিজ্ঞাপন

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সুবিধাভোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি এবং নিজের নামে নিবন্ধিত সচল মোবাইল নম্বর দিয়ে ‘টিসিবি সেবা অ্যাপস’-এর ডাটাবেজে তথ্য যাচাই করতে হবে।

কার্ড হারিয়ে গেলে নির্ধারিত ফি দিয়ে নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে অ্যাপের মাধ্যমে পুনঃঅ্যাক্টিভেশন সম্পন্ন করার বিধান রাখা হয়েছে।

ডিলারদের জন্য থাকছে কঠোর নিয়ম

বিজ্ঞাপন

নির্ধারিত দোকান বা বিক্রয়কেন্দ্রে টিসিবির ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিক্রির তথ্যসংবলিত ব্যানার ও মূল্যতালিকা দৃশ্যমান স্থানে রাখতে হবে। পণ্য দেওয়ার সময় পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন বা স্মার্ট কার্ড স্ক্যান করে লেনদেন সম্পন্ন করতে হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ভর্তুকির পণ্য কোনোভাবেই ফ্যামিলি কার্ডধারী ছাড়া অন্য কারও কাছে বিক্রি করা যাবে না। অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবের বাইরে নগদ গ্রহণ বা জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ব্যাংকে অর্থ জমার পর ডিজিটাল এপিআইয়ের মাধ্যমে তা নিশ্চিত হওয়ার পরই গুদাম থেকে পণ্য ছাড়ের অনুমতি দেওয়া হবে।

মাঠপর্যায়ে বাড়ছে তদারকি

টিসিবির পণ্য বিক্রিতে অনিয়ম ঠেকাতে বিভিন্ন পর্যায়ে মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশনা রাখা হয়েছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় মেয়র, জেলায় জেলা প্রশাসক, উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এসব কমিটি কাজ করবে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিটি ওয়ার্ডে ‘ট্যাগ টিম’ গঠন করা হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে পণ্য খালাস ও বিতরণ করতে হবে। ডিলার নির্ধারিত ওজন ও মান বজায় রেখে পণ্য দিচ্ছেন কি না, তা সরেজমিনে যাচাই করবে ট্যাগ টিম।

এ ছাড়া বিক্রয়কেন্দ্রে অনিয়ম বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে নতুন নির্দেশিকায়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD