Logo

ডিমের ডজনে কমল ১০ টাকা, তবে মাছ-মুরগির দামে নেই স্বস্তি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৬
ডিমের ডজনে কমল ১০ টাকা, তবে মাছ-মুরগির দামে নেই স্বস্তি
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

রাজধানীর বাজারে ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছ ও মুরগির বাজারে তার প্রভাব পড়েনি। গত সপ্তাহের তুলনায় ডজনপ্রতি ডিমের দাম ১০ টাকা কমেছে। তবে মাছ, মুরগি ও মাংসের দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

বাজারে বর্তমানে এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায়। গত সপ্তাহে একই পরিমাণ ডিমের দাম ছিল ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনপ্রতি দাম কমেছে ১০ টাকা।

মুরগির বাজারে ব্রয়লার আগের দামেই ১৯০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে সোনালি, হাইব্রিড ও লেয়ার মুরগির দামে কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা কমেছে। সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা এবং লেয়ার ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে—প্রতি কেজি ৮০০ টাকা।

২৩০ টাকার নিচে মিলছে না পাঙাশ

বিজ্ঞাপন

মাছের বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাছে দামের ওঠানামা থাকলেও সামগ্রিকভাবে বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি। চাষের পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকায়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মান ও আকারভেদে চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং দেশি কই ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া চাষের কই ২৬০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিংয়ের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। মাঝারি আকারের রুই পাওয়া যাচ্ছে ২৭০ থেকে ৩৫০ টাকায়। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছের ক্ষেত্রে কেজিপ্রতি দাম হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

রায়ের বাজারের ক্রেতা মো. মাকসুদুন নবী বলেন, ‘বাজারে মাছ, মুরগি ও মাংসের দাম আগের অবস্থাতেই রয়েছে, বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে আমাদের মতো মধ্যবিত্তের মাছ পাঙাশ ও তেলাপিয়া কিনতে ক্রেতাদের কেজিপ্রতি কমপক্ষে ২৩০ টাকা গুনতে হচ্ছে। মুরগি ও মাংসের দামেও উল্লেখযোগ্য কোনো কমতি নেই, আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।’

সরবরাহের ওপর নির্ভর করছে মাছের দাম

মাছ বিক্রেতা মহিউদ্দিন বলেন, ‘মাছের দাম ঠিক নাই। এখন একদর, বিকেলে আরেক দর। মাছ বেশি আসলে দাম কমে, কম আসলে দাম বাড়ে। ক্রেতা, সরবরাহ ও আবহাওয়ার উপরও দাম অনেক সময় নির্ধারণ হয়। আজকে কাতলা মাছ ৪৫০ টাকা কেজি, চিংড়ি ৭০০ টাকা কেজি আর শিং ৩৫০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। আজকে মাছও আছে, ক্রেতাও আছে।’

বিজ্ঞাপন

বিক্রেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাছের সরবরাহ, আবহাওয়া ও বাজারে ক্রেতার উপস্থিতির ওপর প্রতিদিন দামে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। ফলে একদিনের দামের সঙ্গে পরদিনের দামের পার্থক্যও থাকছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে মাছের তুলনামূলক বেশি দামে নিম্নবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে। বাজারে কম দামের মাছ হিসেবে পরিচিত পাঙাশ ও তেলাপিয়াও এখন অনেক পরিবারের জন্য আগের তুলনায় ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। ক্রেতাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, বাড়তি দামের কারণে মাছ কেনার পরিমাণ কমিয়ে দিতে হচ্ছে।

ডিমে কমেছে দাম

বিজ্ঞাপন

মুরগি বিক্রেতা আনিস আহমেদ বলেন, ‘গত সপ্তাহের মতো এই সপ্তাহেও ১৯০ টাকায় প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করছি। সোনালি মুরগির দাম ২১০ টাকা ছিল, আজকেও ২১০ টাকাতেই বিক্রি হচ্ছে।’

ডিম ব্যবসায়ী মাছুম বলেন, ‘ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা কমেছে। আজকে ব্রয়লার সাদা ডিম ১৪০ টাকা, আর ব্রাউন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে।’

ফলে বাজারের সামগ্রিক চিত্রে ডিমের দামে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও মাছ ও মুরগির বাজারে বড় ধরনের দাম কমার খবর নেই।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD