বরিশালে সরবরাহ বাড়ায় কমল ইলিশের দাম

দীর্ঘদিন চড়া দামে বিক্রির পর বরিশালের বাজারে ইলিশের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গত কয়েক দিনে মোকামগুলোতে মাছটির সরবরাহ প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় পাইকারি বাজারে মণপ্রতি দাম কমেছে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বরিশাল নগরীর ইলিশের প্রধান পাইকারি মোকাম পোর্ট রোড ও বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী, জেলে ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পোর্ট রোডসহ বিভিন্ন মোকামে ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। জেলেদের জালে মাছ বেশি ধরা পড়ায় বাজারে সরবরাহ বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে দামে।
পোর্ট রোডে মাছ কিনতে আসা রাসেল হাওলাদার বলেন, এক সপ্তাহ আগে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বুধবার একই আকারের মাছ মিলছে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। দাম কমায় তিনি দুই কেজি ইলিশ কিনেছেন।
বিজ্ঞাপন
নগরীর বাংলাবাজারের ক্রেতা রেজাউল ইসলাম জানান, গত সপ্তাহে ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের দুটি ইলিশ ২ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে কিনেছিলেন। বুধবার একই আকারের মাছ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকা কেজিতে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পোর্ট রোড মোকামের খুচরা বিক্রেতা নাসির উদ্দিন বলেন, গত সপ্তাহে চারটি ইলিশে এক কেজি হয়—এমন মাছ ১ হাজার টাকা কেজিতে কিনেছেন। চলতি সপ্তাহে একই মাছ ৬০০ টাকা কেজিতে কিনছেন। এক কেজি ওজনের ইলিশও এখন ২ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে কেনা যাচ্ছে, যা আগে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা ছিল।
মণপ্রতি কমেছে ২০ হাজার টাকা
পোর্ট রোড মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি মো. জহির শিকদার জানান, গত সপ্তাহে পোর্ট রোডের মোকামে প্রায় ৭৫ মণ ইলিশ এসেছিল। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সেখানে বিক্রি হয়েছে প্রায় ১৬০ মণ। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে সরবরাহ দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, সরবরাহের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ইলিশের দাম আরও কমতে পারে।
মোকামের তথ্য অনুযায়ী, সাত দিন আগে দেড় কেজির বেশি ওজনের ইলিশ প্রতি মণ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। মঙ্গলবার সেই মাছ বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়। অর্থাৎ মণপ্রতি দাম কমেছে ৩০ হাজার টাকা।
এক কেজি ২০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশের দাম ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা থেকে কমে হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা মণ। এক কেজি থেকে ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের মাছের দাম ১ লাখ ১০ হাজার থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৯৬ হাজার টাকা।
বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশ ৯৯ হাজার থেকে কমে ৮০ হাজার টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের মাছ ৮৫ হাজার থেকে কমে ৭০ হাজার এবং ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রামের মাছ ৬৫ হাজার থেকে কমে ৫০ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।
৩০০ থেকে ৪০০ গ্রামের ইলিশের দাম ৫৫ হাজার টাকা থেকে নেমে হয়েছে ৪০ হাজার টাকা মণ। ২৫০ গ্রাম ওজনের মাছ ৪২ হাজার থেকে কমে বিক্রি হচ্ছে ৩০ হাজার টাকায়। এর চেয়ে ছোট ইলিশের দাম ৩২ হাজার থেকে কমে হয়েছে ২০ হাজার টাকা মণ।
নিষেধাজ্ঞার সময় নিয়ে জেলে-ব্যবসায়ীদের দাবি
বিজ্ঞাপন
জহির শিকদারের ভাষ্য, গত বছর ৪ অক্টোবর থেকে ইলিশ ধরা বন্ধ হয়েছিল। এবার জেলে ও ব্যবসায়ীরা ৩০ অক্টোবর থেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, এখনো ইলিশের পেটে ডিম আসেনি।
তাঁর মতে, অক্টোবরের শেষ দিকে নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে তার আগে ইলিশের সরবরাহ আরও বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রতি কেজি ইলিশের দাম অর্ধেক পর্যন্ত কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
হিজলার জেলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দীর্ঘদিন নদীতে ইলিশের সংকট থাকলেও গত চার-পাঁচ দিন ধরে জালে আগের তুলনায় বেশি মাছ ধরা পড়ছে। এখনো ইলিশের পেটে ডিম না আসায় অক্টোবরের শেষ দিকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. কামরুল হাসান বলেন, গত চার-পাঁচ দিন ধরে বরিশালে পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। আগের তুলনায় মোকামগুলোতে প্রায় দ্বিগুণ মাছ যাচ্ছে। সরবরাহ বাড়ার কারণেই দাম কমেছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বৈঠক চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যবসায়ী ও জেলেদের দাবিগুলো সেখানে তুলে ধরা হবে। ইলিশের পেটে ডিম আসার পরই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
পাঁচ বছরে উৎপাদন কমেছে ১ লাখ টনের বেশি
বিভাগীয় মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে ২০২১-২২ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৮৫১ মেট্রিক টন। ২০২২-২৩ অর্থবছরে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৪৩ টনে।
বিজ্ঞাপন
পরের অর্থবছরগুলোতে উৎপাদন কমতে থাকে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৮৩৪ টন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৭৮৩ টন ইলিশ উৎপাদন হয়।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে উৎপাদন আরও কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯৭ টনে। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে বরিশাল বিভাগে ইলিশের উৎপাদন কমেছে ১ লাখ ৩ হাজার ২৫৪ মেট্রিক টন।








