দীঘিনালায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৫০ পরিবার পেল খাদ্য সহায়তা

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৫০ পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির খাগড়াছড়ি ইউনিট। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে দীঘিনালা উপজেলা অডিটোরিয়ামে ১৫৯ পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়। পরে মেরুং ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে আরও ৯১ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৭ জুলাই টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালার মেরুং, কবাখালীসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ২২ আগস্ট মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পর মেরুং, কবাখালী ও মধ্য বোয়ালখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় আবারও পানি ঢুকে পড়ে।
এর কয়েকদিন পর ২৯ আগস্ট রাতে ভারী বৃষ্টিতে দীঘিনালায় ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এতে মাইনি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। পানিতে ঘরবাড়ির পাশাপাশি আমন ধানের ক্ষেত ও সবজি আবাদও তলিয়ে যায়।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে এর আগেও সহায়তা দিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট। গত ১১ জুলাই দীঘিনালার ছোট মেরুং এলাকার তিনটি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬০টি বন্যাকবলিত পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছিল সংস্থাটি।
বিজ্ঞাপন
প্রতিটি খাদ্য প্যাকেজে রয়েছে সাড়ে ৭ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি তেল, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি চিনি ও ৫০০ গ্রাম সুজি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. মোশারফ হোসেন বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনের সময়ে তাদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রেড ক্রিসেন্টের এ উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সাময়িকভাবে হলেও প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা পাবে।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির খাগড়াছড়ি ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান মো. দুলাল হোসেন বলেন, “দীঘিনালায় ২৫০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে আজ খাদ্য সহায়তা দিতে পেরেছি। এর পাশাপাশি খাগড়াছড়িতে মোট ৮০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হবে। এছাড়া ২ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ৮ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতিও চলমান রয়েছে।”
অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য শান্তিপ্রিয় চাকমা, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির খাগড়াছড়ি ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান মো. দুলাল হোসেন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাদের মানবিক দায়িত্ব। প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হবে।








