এক মাসের সর্বনিম্ন থেকে ঘুরে দাঁড়াল সোনার দাম

এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে সোনার দাম। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিনের লেনদেনে মূল্যবান ধাতুটির দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে। ডলারের দর কমে যাওয়া এবং তেলের বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতার পাশাপাশি ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পর বিনিয়োগকারীদের নতুন করে অবস্থান নেওয়ায় সোনার বাজারে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৩৯ দশমিক ৫৩ ডলারে উঠেছে। এর আগের দিন বুধবার সোনার দাম কমে ৪ হাজার ২৩৪ দশমিক ৬৫ ডলারে নেমেছিল। গত ৭ আগস্টের পর এটিই ছিল ধাতুটির সর্বনিম্ন দর।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বর ডেলিভারির সোনার ফিউচার বিপরীত চিত্র দেখিয়েছে। ওই সময় ফিউচার দর শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৭৯ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়ায়।
ডলার দুর্বল হওয়ায় বাড়ল সোনার আকর্ষণ
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার মার্কিন ডলারের মূল্য সাত সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা নেমে আসে। সাধারণত ডলারে দাম নির্ধারিত সোনা অন্য মুদ্রায় লেনদেন করা বিনিয়োগকারীদের কাছে ডলারের দর কমলে তুলনামূলক সস্তা হয়ে ওঠে। এতে সোনার চাহিদা বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও কমেছে। বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে এসব পরিবর্তন সোনার দামের ওপর প্রভাব ফেলেছে।
এর আগে বুধবার ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে আরও সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সাধারণভাবে সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ তখন সুদ বা মুনাফা দেয়—এমন সম্পদ বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তবে ফেডের সিদ্ধান্তের পর বাজারে বিনিয়োগকারীদের অবস্থান পুনর্বিন্যাস এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক সূচকের প্রভাবে বৃহস্পতিবার সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মূল্যস্ফীতি ও অনিশ্চয়তাও প্রভাব ফেলছে
বাজার বিশ্লেষক লিন ট্রানের মতে, জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন চাপের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তার মতে, মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনার চাহিদা বজায় থাকতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ার সুযোগ রয়েছে।
রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামেও ঊর্ধ্বগতি
বিজ্ঞাপন
শুধু সোনা নয়, বৃহস্পতিবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে।
স্পট রুপার দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৪ দশমিক ৩২ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭৮৪ দশমিক ২৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
প্যালাডিয়ামের দামও ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। লেনদেনে ধাতুটির প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ২৮৯ দশমিক ৯৫ ডলার।
বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক বাজারে এসব মূল্যবান ধাতুর দামের ওঠানামা সাধারণত ডলারের মূল্য, সুদের হার, মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।
তথ্য সূত্র: রয়টার্স








