নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ দিচ্ছে সরকার

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি স্বল্পসুদে ঋণ কর্মসূচি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ অর্থের মাধ্যমে গৃহস্থালি, প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্প পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি স্থাপনে অর্থায়ন করা হবে।
বিজ্ঞাপন
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনীতি অনুবিভাগের ১৪ সেপ্টেম্বর জারি করা পরিপত্রে কর্মসূচির বিস্তারিত শর্ত ও অর্থায়ন কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে।
সরকার অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বার্ষিক মাত্র ০.৫ শতাংশ সুদে এই অর্থ দেবে। তবে চূড়ান্ত সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে সব ধরনের ফি ও চার্জসহ কার্যকর বার্ষিক সুদের হার সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো অতিরিক্ত ফি বা চার্জের মাধ্যমে এই সীমা অতিক্রম করা যাবে না।
তিন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিতরণ হবে অর্থ
বিজ্ঞাপন
কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (আইডকল), বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০০ কোটি টাকা করে সরকারি ঋণ দেওয়া হবে। এ জন্য অর্থ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পৃথক ঋণচুক্তি সম্পাদিত হবে। চুক্তিতে অর্থ ব্যবহারের খাত, পরিশোধ পদ্ধতি, প্রতিবেদন, নিরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় শর্ত নির্ধারণ করা হবে।
সরকারি ঋণের মেয়াদ হবে ১০ বছর। এর মধ্যে এক বছর গ্রেস পিরিয়ড রাখা হয়েছে। গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পরের মাস থেকে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আসল ও সুদ পরিশোধ শুরু করতে হবে।
সৌরবিদ্যুৎ ও সেচপাম্পে অর্থায়ন
বিজ্ঞাপন
কর্মসূচির আওতায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন, নেট মিটারিং সংযোগ, সোলার হোম সিস্টেম এবং সৌরচালিত সেচপাম্পে ঋণ দেওয়া যাবে।
এর পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ইনভার্টার, মিটার ও ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রযুক্তি স্থাপন বা আধুনিকায়নেও অর্থ ব্যবহার করা যাবে। গৃহস্থালি থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানা—বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহক এ অর্থায়নের আওতায় আসতে পারবেন।
অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরা অথবা অংশীদার ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করতে পারবে। তবে ঋণগ্রহীতা অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সেই ঝুঁকি সংশ্লিষ্ট অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
চলতি অর্থবছরের বাজেট থেকে আসছে বড় অংশ
সরকারের অগ্রাধিকার বিবেচনায় এ কর্মসূচির জন্য মোট ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। এর মধ্যে ১ হাজার কোটি টাকা ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য রাখা ২ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ থেকে পুনর্বিন্যাস করা হবে।
অবশিষ্ট ৫০০ কোটি টাকা পরিচালন বাজেট থেকে সংস্থান করা হবে।
বিজ্ঞাপন
সরকার বলছে, আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয়, ভর্তুকির চাপ এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যেই কর্মসূচিটি নেওয়া হয়েছে।
২০৩০ সালের লক্ষ্য ২০ শতাংশ
জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬–২০৩০ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিশেষ করে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ দ্রুত সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন ঋণ কর্মসূচিকে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অর্থায়ন কাঠামোর একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঋণের অর্থ অন্য কাজে ব্যবহার করা যাবে না
পরিপত্রে ঋণের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান ঋণ পরিশোধ, ঋণ নবায়ন বা ‘লোন এভারগ্রিনিং’, জমি বা শেয়ার কেনা, ব্যক্তিগত ভোগ, সাধারণ প্রশাসনিক ব্যয় কিংবা অন্য কোনো তহবিলে অর্থ স্থানান্তরের কাজে এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে না।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
প্রতিটি অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে কর্মসূচির জন্য আলাদা ব্যাংক হিসাব ও পৃথক হিসাব কোড রাখতে হবে। একই সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদিত পরিচালন পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনা তথ্যব্যবস্থা চালু করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
সুবিধাভোগীদের অনুমোদিত ব্যাংক হিসাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঋণের অর্থ দেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে।
ঋণ দেওয়ার আগে যাচাই বাধ্যতামূলক
ঋণ বিতরণের আগে সুবিধাভোগীর যথাযথ যাচাই-বাছাই করতে হবে। কারা ঋণ পাবেন, কিস্তির ধরন কী হবে এবং ঋণ মূল্যায়নের মানদণ্ড কী হবে—এসব বিষয়ে নিজস্ব নীতিমালা তৈরি করবে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।
বিজ্ঞাপন
তবে এসব নীতিমালা তৈরির সময় যথাযথ ডিউ ডিলিজেন্স এবং পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গ্রাহক পরিচিতি যাচাই বা কেওয়াইসি, অর্থপাচার প্রতিরোধ এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত বিধানও মানতে হবে।








