বিশ্ববাজারে ফের কমল জ্বালানি তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা কিছুটা কমায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও কমেছে। এশিয়ার শোধনাগারগুলোর জন্য ওমানের মাধ্যমে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। এতে সরবরাহ নিয়ে বাজারের উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবারের লেনদেন শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৯২ ডলার বা ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৮৩ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৪০ ডলার বা ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ৪৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজারেও তেলের দর নিম্নমুখী ছিল।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
রয়টার্সের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এদিন ব্রেন্ট ক্রুড ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ১০৪ দশমিক ৫৯ ডলারে এবং ডব্লিউটিআই ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১০১ দশমিক ২৯ ডলারে লেনদেন করছিল। আগের দিন উভয় বেঞ্চমার্কই প্রায় ৩ ডলার করে কমেছিল।
ওমান হয়ে এশিয়ায় সৌদি তেল
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরব ওমানের সোহার বন্দরের কাছে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে এশিয়ার শোধনাগারগুলোতে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিচ্ছে। সৌদি আরামকো এশিয়ার ক্রেতাদের কাছে আরব লাইট, আরব মিডিয়াম ও আরব হেভি গ্রেডের অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে।
সোহার বন্দর হরমুজ প্রণালির বাইরে হওয়ায় এই বিকল্প রুটের মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতেও এ ধরনের সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সম্প্রতি ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বিকল্প সরবরাহপথ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই পাইপলাইন সৌদি তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু রপ্তানি টার্মিনালে তেল পৌঁছে দেয়। ইয়ানবু থেকে সরবরাহে বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় বাজারে আন্তর্জাতিক সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছিল।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভো বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সৌদি আরব তেল রপ্তানি করছে—এমন খবর সরবরাহব্যবস্থায় আরও বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা কমিয়ে দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের মজুতেও বাজারে চাপ
যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুতের তথ্যও দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি করেছে। গত সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ৬ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল কমেছে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছিল, মজুত কমবে প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল।
অর্থাৎ মজুত কমলেও তা পূর্বাভাসের তুলনায় কম হওয়ায় সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়নি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিন ও ডিস্টিলেটের মজুত বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
ফলে সৌদি আরবের বিকল্প সরবরাহ উদ্যোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মজুতের তথ্য—দুই দিক থেকেই বাজারে সরবরাহ নিয়ে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।








