১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকার জ্বালানি তেল কিনছে সরকার

চলতি বছরের বাকি সাড়ে তিন মাসের চাহিদা মেটাতে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চীন ও ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির কাছ থেকে এসব জ্বালানি কেনা হবে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সময়ে দরপত্র ছাড়াই আরও ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন গ্যাস ওয়েল ও জেট ফুয়েল কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
দরপত্র ছাড়া সরাসরি পণ্য কেনার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদন প্রয়োজন হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনার ক্ষেত্রে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ৫০:৫০ অনুপাতে কেনার যে শর্ত ছিল, বুধবারের বৈঠকে তা শিথিল করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এর ফলে চীনের ইউনিপেক ও পেট্রো চায়না এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপির কাছ থেকে জিটুজি চুক্তির আওতায় পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব জ্বালানি কিনতে মোট ব্যয় হবে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এবার কী পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে, সে তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
এর আগে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ ও মজুত কমে যাওয়ায় দরপত্র ছাড়াই ১৮ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
আগস্টেও দুই দফায় দরপত্র ছাড়া ২২ কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৯ আগস্ট সাতটি কোম্পানির কাছ থেকে দুই কার্গো করে মোট ১৪ কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে ৬ আগস্ট আট কার্গো এলএনজি এবং জরুরি চাহিদা পূরণ ও বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ৫ হাজার টন এলপিজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় ছয় মাস ধরে কার্যত বন্ধ থাকার পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে ইয়েমেনের হুথিদের বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরে হুমকির কারণে সংকট আরও জটিল হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পশ্চিম এশিয়ার বাইরে অন্যান্য উৎস থেকে তুলনামূলক বেশি দামে তেল ও গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে সরকারকে। প্রয়োজন অনুযায়ী কখনও দরপত্র ছাড়াই এসব জ্বালানি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।








