Logo

আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯:৫৫
আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে আগস্টে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। একক মাসের হিসাবে গত আগস্টে দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ, যা এযাবৎকালের সর্বোচ্চ মাসিক প্রবৃদ্ধি।

বিজ্ঞাপন

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ৮১৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই মাসে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৬৫০ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন ডলার।

চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট—প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি।

প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানির মাসিক গড় দাঁড়িয়েছে ৮০৬ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ডলার। বিপরীতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মোট রপ্তানি আয়কে ১২ মাসের গড় হিসেবে ধরলে মাসিক গড় ছিল ৬৪৫ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ডলার।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

তবে চলতি অর্থবছরের শুরুতে রপ্তানি বৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে আগস্টের শক্তিশালী পারফরম্যান্স থেকে। ওই মাসেই প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক বাজার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশ থেকে মোট পণ্য রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৯ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারের। আগের অর্থবছরের তুলনায় এই আয় ৪ দশমিক ০৯ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে শুধু তৈরি পোশাক থেকেই এসেছে ৭ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার।

অর্থাৎ, পোশাকের বাইরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক ও মেলামাইন, টেক্সটাইল ও সুতা, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল পণ্য এবং জুতাসহ অন্যান্য পণ্য থেকেও প্রায় ১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় করেছে বাংলাদেশ।

রপ্তানিকারকদের মতে, আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের অর্ডার আরও বাড়ার সুযোগ রয়েছে। পণ্যের বৈচিত্র্য ও উচ্চমূল্যের পণ্য বাড়াতে পারলে এই বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা আরও তৈরি হবে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক বাসসকে বলেন, শীতকালীন পোশাকের অর্ডারের কার্যাদেশ দেওয়ার সময়সীমা হওয়ায় আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে। বৈশ্বিক নানা সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের সক্ষমতার কারণে এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আগের কয়েক মাসের তুলনায় সামনের মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভালো অর্ডার পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান ফজলুল হক। তাঁর মতে, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো গেলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি কয়েকগুণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ও ফতুল্লা অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে শামীম এহসান বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে এবং উদ্যোক্তারা তা কাজে লাগাচ্ছেন। এ সুযোগ ধরে রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ ও নীতির ধারাবাহিকতা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানির বর্তমান গতি আশাব্যঞ্জক। এই প্রবৃদ্ধি আগামী ১২ মাস ধরে রাখা সম্ভব হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার হওয়ায় সেখানে পণ্যের বৈচিত্র্য, উচ্চমূল্য সংযোজন ও মানোন্নয়নের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে উৎপাদন বাড়াতে জ্বালানিসহ প্রয়োজনীয় ইউটিলিটি সেবা নিশ্চিত করাও জরুরি।

পোশাকের পাশাপাশি চামড়া, পাট, হোম টেক্সটাইল, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ, প্লাস্টিক এবং হালকা প্রকৌশল খাতে রপ্তানি বাড়াতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের সামগ্রিক রপ্তানি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হবে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকেই এসেছে প্রায় ৯ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার। নতুন অর্থবছরের শুরুতে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির গতি এবং আগস্টের রেকর্ড ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির সম্ভাবনাকে আরও সামনে এনেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD