Logo

শিক্ষকদের রাজনীতিতে জড়ানোর আর থাকছে না সুযোগ, আসছে নতুন বিধি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৩:৪৯
শিক্ষকদের রাজনীতিতে জড়ানোর আর থাকছে না সুযোগ, আসছে নতুন বিধি
ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য নতুন আচরণবিধি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত বিধিতে শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কর্মকাণ্ড, দলীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা এবং শিক্ষার বাইরে অন্য পেশা বা কাজে যুক্ত থাকার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সরকারের নির্দেশনার পর এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য আচরণবিধির খসড়া তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর বিধিমালাটি চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। ফলে এখনো কোন কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ বা কোনটির ক্ষেত্রে কী ধরনের বিধিনিষেধ থাকবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ হয়নি।

শিক্ষকদের পেশাগত আচরণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান এবং জবাবদিহিতা বাড়ানোর বিষয়টিও প্রস্তাবিত উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। মাউশির সাম্প্রতিক নির্দেশনাগুলোতেও শিক্ষা কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনা ও তদারকির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে কী ভাবা হচ্ছে

বিজ্ঞাপন

প্রস্তাবিত আচরণবিধিতে শিক্ষকদের দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করার আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক পদ-পদবি গ্রহণ, দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ কিংবা শিক্ষকতার পরিচয় বা প্রভাব ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মতো বিষয়গুলো কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে, তা খসড়ায় নির্ধারণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টিও এ আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। কোনো শিক্ষক রাজনৈতিক দলের সরাসরি পদে না থেকেও নির্বাচনে অংশ নিলে তার পেশাগত দায়িত্বের সঙ্গে এর সম্পর্ক কী হবে, সেটিও বিধিতে স্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত বিধিমালা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এসব বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হিসেবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

শিক্ষাবহির্ভূত কাজেও আসতে পারে বিধিনিষেধ

বিজ্ঞাপন

শুধু রাজনীতি নয়, শিক্ষকতার পাশাপাশি অন্য পেশা বা নিয়মিত কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার বিষয়েও বিধিনিষেধ আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে এমন কাজ, যা একজন শিক্ষকের নিয়মিত পাঠদান, প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি কিংবা দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করে—সেগুলোকে আচরণবিধির আওতায় আনার চিন্তা করা হচ্ছে।

এর উদ্দেশ্য হিসেবে শিক্ষকতার পেশাগত দায়িত্ব, সময়ানুবর্তিতা এবং শ্রেণিকেন্দ্রিক কাজকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে রাখা হচ্ছে।

নজরদারি বাড়বে শ্রেণিকক্ষেও

বিজ্ঞাপন

শিক্ষকদের আচরণবিধির পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান ও উপস্থিতি পর্যবেক্ষণেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে। দেশব্যাপী অভিন্ন পাঠ পরিকল্পনা ও সময়াবদ্ধ রুটিন বাস্তবায়নের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থার কথা কর্মপরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।

মাউশির বিভিন্ন সাম্প্রতিক কার্যক্রমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ব্যবস্থাপনা, বদলি এবং শিক্ষা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

দক্ষতা উন্নয়ন ও সহশিক্ষা কার্যক্রম

বিজ্ঞাপন

শিক্ষকদের রাজনৈতিক বা শিক্ষাবহির্ভূত কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তাদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়টিও পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষক সংকট মোকাবিলা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, চিত্রাঙ্কন ও গণিত অলিম্পিয়াডের মতো সহশিক্ষা কার্যক্রম বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। মাউশির সাম্প্রতিক নোটিশ তালিকাতেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া ও সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে।

যা বলছে মাউশির মহাপরিচালক

বিজ্ঞাপন

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, শিক্ষকতা শুধু চাকরি নয়; এটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। প্রস্তাবিত আচরণবিধির উদ্দেশ্য কোনো শিক্ষককে অযথা নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বরং শিক্ষকতার মর্যাদা, পেশাগত দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার একটি সুস্পষ্ট কাঠামো তৈরি করা।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষকরা যেন নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদানে মনোযোগী হন এবং শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে ভূমিকা রাখেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করাই উদ্যোগটির অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির ব্যবহারেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ভালো কাজের জন্য শিক্ষকদের উৎসাহ ও স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। অর্থাৎ প্রস্তাবিত উদ্যোগে শুধু পেশাগত শৃঙ্খলা নয়, শিক্ষকদের সক্ষমতা ও মর্যাদা বাড়ানোর বিষয়ও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সরকারি উদ্যোগের পরবর্তী ধাপে খসড়া আচরণবিধি পর্যালোচনা ও সংশোধনের পর চূড়ান্ত বিধিমালা জারি হতে পারে। তখনই শিক্ষকরা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, নির্বাচন, শিক্ষাবহির্ভূত পেশা ও অন্যান্য কার্যক্রমে ঠিক কী ধরনের বিধিনিষেধের আওতায় পড়বেন, তা স্পষ্ট হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD